নেত্রকোনায় বন্যায় গো খাদ্য সংকট বিপাকে খামারী ও সাধারণ কৃষক

বৃহস্পতিবার, জুন ২৩, ২০২২

সানাউল হক সানি,নেত্রকোণা৷ প্রতিনিধি : নেত্রকোণা মদন উপজেলা একটানা ভারীবর্ষণ ও উজান হতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের বন্যার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গো খাদ্য সংকটে বিপাকে পড়েছে খামারী ও সাধারণ কৃষক। হঠাৎ করে বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের খড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারী ও সাধারণ কৃষক।

এদিকে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হু হু করে বাড়িয়ে দিয়েছে গো খাদ্যের দাম। তাকেই বলে মরার উপর খাড়ার খা। পৌরসভার বাসিন্দা জয় মা ডেইরী ফার্মের মালিক সুজন নাগ জানান, আমার খামারে প্রায় ২০/২৫ দুগ্ধ গাভী রয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারের ভিতরে পানি ঢুকে যায়।

ফলে খড়সহ অনেক কিছু পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আমার খামারের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। খামারটি অন্য জায়গায় স্থানান্তর করায় আমি অনেক ভোগান্তিতে পড়েছি। ফলে গাভীর দুধ কমে গিয়েছে। অন্যদিকে খাবারের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

মাঘান ইউনিয়নের বাসিন্দা খামারী মঞ্জু শাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা গো খাদ্যের দাম রাতারাতি বাড়িয়ে বিক্রি করছে। খড় না থাকায় কচুরীপানা অনেক দূর থেকে এনে অল্প অল্প করে গরুকে খেতে দিচ্ছি। তবে দ্রুত বন্যার পানি না নামলে গরু বিক্রয় ছাড়া কোন পথ থাকবে বলে আমার মনে হয় না।

পৌরসভা ও ইউনিয়নের খামারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসার্স মাশরুফা ডেইরী ফার্ম, নিশান খোকা ডেইরী ফার্ম, চৌধুরী ডেইরী ফার্ম, মেসার্স আয়শা ডেইরী ফার্ম, মেসার্স রাবিয়া ডেইরী ফার্ম, দেওয়ান সানজাত ডেইরী ফার্ম, জয় মা ডেইরী ফার্ম, মঞ্জুরা ডেইরী ফার্ম, পার্থ এগ্রো এন্ড ডেইরী ফার্ম এর মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এখন বিপাকে পড়েছি।

উপজেলা পানি সম্পদক কর্মকর্তা মাসুদ করিম সিদ্দিকী এ প্রতিনিধিকে জানান, বন্যায় আক্রান্ত গরুর খামার উপজেলা ও পৌরসভাসহ প্রায় ২৮টি হাঁস ও মুরগির খামার আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫২টি। ক্ষতিগ্রস্থ খামারের তালিকা করা হচ্ছে। গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসন এর সাথে কথা বলে বাজার মনিটরিং করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, হঠাৎ করে বন্যা আসায় মদন উপজেলায় গো খাদ্যের সংকট তৈরি হয়েছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্যায় যদি কোন ব্যবসায়ী গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি করে এমন অভিযোগ ফেলে দ্রুত তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।