আকাশে বিমানবালার কাজ কী?

শুক্রবার, এপ্রিল ২২, ২০২২

রকমারি ডেস্ক: বিমানের অন্যতম প্রয়োজনীয় কর্মী বাহিনী হলো এয়ার হোস্টেজ বা বিমানবালা। তারা কেবিন ক্রু নামেও পরিচিত। কিছু জায়গায় বিমানবালাদের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টও বলা হয়। বিমানের যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে কাজ করেন বিমানবালা। অনেকে ভাবেন বিমানবালার কাজ কেবল বিমানের যাত্রীদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করা। এই কাজও তারা করেন, কিন্তু এর পাশাপাশি বিমানবালারা অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের সাহায্য করেও থাকেন।

বিমানে জরুরি সরঞ্জাম রয়েছে কিনা পরীক্ষা করেন। বিমানের যাত্রীরা নিরাপত্তা বিধান পুরোপুরি মেনেছেন কিনা তা নিশ্চিত করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান বালাযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা তথ্য প্রদান করেন। আরেকটু বিশদভাবে বললে, বিমান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে কিনা, ফার্স্ট এইড আছে কিনা এসব দেখেন বিমানবালা। সি পকেট থেকে শুরু করে খাবার-দাবার সবকিছুর খোঁজ রাখতে হয় তাকে।

যাত্রীদের টিকিট মিলিয়ে দেখা, কেবিন লাগেজ সিটে পৌঁছাতে সহায়তা করা, যাত্রীদের নিজ সিট খুঁজে পেতে সাহায্য করার কাজও করেন থাকেন বিমানবালা। বিমান ওড়ার আগে সিট বেল্ট লাগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়ে থাকেন তিনি। পাইলটের পক্ষ থেকে বিমান ওঠানামা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও যাত্রীদের দিয়ে থাকেন একজন বিমানবালা। বিভিন্ন জরুরি সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা যাত্রীদের শিখিয়ে দেন বিমানবালা। জরুরি অবতরণ বা কোনো সমস্যায় কী করে নিরাপদ থাকা যাবে সেই সংক্রান্ত তথ্যও দেন তিনি।

কোনো যাত্রীর বালিশ বা কম্বল প্রয়োজন হলে তিনি তা এগিয়ে দেন। যেসব যাত্রীরা বিমান ভ্রমণে ভয় পান, তাদের সঙ্গে সান্ত্বনা দেওয়া বা পরামর্শ দেওয়ার কাজটি করেন বিমানবালা। যেহেতু একজন বিমানবালা যাত্রীদের নানান ধরনের পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হয়। কেননা, তাকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাটাতে হয়। একজন বিমানসেবিকাকে একটানা ১২ ঘণ্টাও কাজ করতে হতে পারে। তাদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। রাতে, সপ্তাহে বন্ধের দিনে এমনকি ছুটির দিনেও বিমানবালাকে কাজ করতে হতে পারে। এ কারণে এই পেশা চ্যালেঞ্জিং।

কীভাবে হবেন বিমানবালা?

সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যে কেউ বিমানবালা হতে পারেন। কিছু প্রতিষ্ঠান অবশ্য স্নাতক সম্পন্ন বিমানবালা চেয়ে থাকেন। বিমানবালা হতে চাইলে উচ্চতা হতে হবে সাধারণের চেয়ে একটু বেশি (মেয়েদের জন্য কমপক্ষে ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ছেলেদের জন্য ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি)। উচ্চতার সঙ্গে থাকতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন। যোগাযোগ দক্ষতায় অবশ্যই ভালো হতে হবে। জানা থাকতে হবে সাঁতার। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা লাগবে।

নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিমানবালার পেশা হিসেবে বেশ রোমাঞ্চকর। তরুণরা সহজে এতে আকর্ষিত হন। এই পেশায় বেতনও ভালো পাওয়া যায়।