হিরুর কারণে পথে বসেছে লাখো বিনিয়োগকারী!

বুধবার, এপ্রিল ৬, ২০২২

ক্যাডার কর্মকর্তা থেকে জুয়াড়ি সর্দার

সরকারি আমলা বা কর্মচারীর কাজ হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। এ দায়িত্বের পাশাপাশি অনেকেই নামে-বেনামে অল্প পরিসরে গোপনে বিনিয়োগ করে থাকেন। এটা নিয়ে কখনও কেউ প্রশ্ন তুলেনি। আবুল খায়ের হিরুই একমাত্র প্রথম শ্রেণির আমলা, যিনি কোনো ধরনের রাখঢাক না করে সরাসরি বাজারে জুয়া খেলায় মেতেছেন। বিষয়টি ‘ওপেন সিক্রেট’ থাকলেও তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। শর্ত ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নামে ফটকাবাজি করছেন। জুয়ার আসর বসিয়ে সর্দার সেজেছেন পুঁজিবাজারে।

তার কয়েকশ কোটি টাকার ফটকাবাজি কারবারে এখন পথে বসেছেন লাখো বিনিয়োগকারী। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, সিরিয়াল ট্রেডিং বা দর নিয়ন্ত্রণের জন্য শেয়ারের লেনদেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তাই ফটকা বিনিয়োগ, অস্বাভাবিক ওঠানামা করা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে বা এ ধরনের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জড়িত হতে পারবেন না। এমনকি তার পরিবারের কোনো সদস্য পর্যন্ত বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু এ দুটিকে তুচ্ছ করেই পুঁজিবাজারে শুধু বিনিয়োগই নয়, বলা যায় দেশের পুঁজিবাজারকে জুয়ার আসর বানিয়ে ফেলেছেন প্রজাতন্ত্রের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা (বিসিএস ক্যাডার) মো. আবুল খায়ের হিরু।

ইতোমধ্যে তার হাত ধরেই ডেল্টা লাইফ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, এনআরবি ব্যাংক, ই-জেনারেশন, ন্যাশনাল ফিড, মালেক স্পিনিং, হামিদ ফেব্রিক্স, ফরচুন শুজ, জেনেক্স ইনফোসিস ইত্যাদি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মূল বাজারের পাশাপাশি ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) মার্কেটে থাকা কোম্পানির শেয়ারদর নিয়েও সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে হিরুর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ওটিসি থেকে ফের মূল বাজারে আসা কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিসহ কয়েকটির শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত তিনি।

জানা গেছে, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর তার হাত ধরেই ৩৯ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় উঠেছে। বর্তমানে এটি লেনদেন হচ্ছে ৬৩ টাকায়। ডেল্টা লাইফের শেয়ারদর ৬২ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৩২ টাকায় উঠেছে তার নেতৃত্বে। বর্তমানে এটি ১৪৬ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। বিমা খাতের পাইওনিয়ারের শেয়ারদর মাত্র ৬১ টাকা থেকে গিয়ে ঠেকেছিল ২০৪ টাকায়। বর্তমানে এটি লেনদেন হচ্ছে ১০১ টাকায়। ফরচুন শুজের শেয়ারদর মাত্র ২১ টাকা থেকে শুরু হয়ে তার নেতৃত্বেই ১৩৯ টাকায় ওঠে। বর্তমানে এটি লেনদেন হচ্ছে ১১৮ টাকায়। এভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকে তিনি ফটকাবাজিতে নিয়ে গিয়েছেন। অথচ সরকারি আইনে ফটকাবাজি নিষিদ্ধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিরুর কারণে অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ বানিয়েছে। তবে তার চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগকারী পথে বসেছেন। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স এনআরবিসি, ওয়ান ব্যাংকে হাজারো বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়েছেন। বিনিয়োকারী শাহাবউদ্দিন বলেন, ‘১৩০ টাকা শেয়ারদরের প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কিনে মাত্র ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। প্রতি শেয়ারে ৪০ টাকা লোকসান দিয়ে এখন পথের ফকির হয়ে গেছি। এখন আমার মতো হাজার হাজার শাহাবুদ্দিন আছে ঢাকা শহরে।’

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মচারী হিরু টাকা দিয়ে সবকিছু করতে অভ্যস্ত। তার টাকার কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এ কারণে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একাধিকবার পুঁজিবাজারের রোড শোতে অংশগ্রহণ করতে বিদেশ সফর করেছেন নিয়মিত। এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সমবায় ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু এদেশের বাজার পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে জুয়াড়িরা। আর তাদের বাতাস দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটা বাজারের জন্য কোনো শুভ সংবাদ নয়। গত দুই বছরে স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন, বিএটিবিসির মতো শেয়ারের দর কমেছে; আর এ নিয়ে বাহবা নিতে চান হিরুসহ বাজার নষ্টকারী সিন্ডিকেট। এটা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ।

এদিকে হিরুর কারণে বেশ কয়েকটি ব্যাংকসহ অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও তলানিতে চলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিও ম্যানেজ করা হতো হিরুর নির্দেশে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক শ্রেণির দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তার সঙ্গেই আঁতাত করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে চলেছেন। শুধু বিনিয়োগই ননএখন তিনি বাজারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল পরিচালনা করছেন। নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের বিও হিসাব পরিচালনা করেন এই হিরু।

সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়িয়েছেন ডজন খানেক কোম্পানির। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে চলেছেন নানা অখ্যাত ও ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিরও। এভাবে কয়েক শতকোটি টাকার মালিক বনে গিয়েছেন তিনি। তার প্রভাবের কারণে এখন মূল ধারার বিনিয়োগকারীরা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। কারণ হচ্ছে, হিরু যে শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন সেই শেয়ারেরই দর বাড়বে। এমন বিশ্বাস এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জেঁকে বসেছে। ফলে যেকোনো শেয়ারের লেনদেনের পূর্বে বিনিয়োগকারীরা ভালোভাবে জেনে নেনÑএই শেয়ারে হিরুর কোনো বিনিয়োগ আছে কি না।

বিশেষ করে ২০২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। করোনা মহামারির শনাক্তের হার তীব্র হওয়ার সময়ে আলোচিত হয়ে উঠেন হিরু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তার। গত বছরের শেষ পর্যন্ত তার ছোয়া লাগা শেয়ারগুলোর দরই শুধু অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পাশাপাশি সমবায় অধিদপ্তরের তহবিলে পরিচালিত পুঁজিবাজারের বিনিয়োগও দেখভাল করেন হিরু। সরকারি তহবিল পরিচালনা করার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাটা তাকে অনেকের কাছেই আস্থাভাজনে পরিণত করেছে। বর্তমানে সমবায় অধিদপ্তর, নিজ, স্ত্রীসহ অনেক বড় অঙ্কের বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবের পোর্টফোলিও তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার কথায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল পরিচালিত হয়। ফলে তার নিজ ও স্ত্রীর নামে থাকা শেয়ারে এখনও লোকসান গুনতে হয়নি।

বর্তমানে পাঁচটি সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে তার আধিপত্য। সম্প্রতি ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানও মোনার্ক নামে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পেয়েছেন। সেই সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হয়েছেন হিরুর স্ত্রী সাদিয়া। এভাবেই সরকারি কর্মকর্তা থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী হয়ে বর্তমানে সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশীদার হয়ে গিয়েছেন হিরু।

এদিকে পুরো বাজারে আলোচিত হয়ে উঠায় হিরুর বিনিয়োগ জানতে উদ্যোগ নেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রাথমিক পর্যায়েই কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার সিরিয়াল ট্রেডিং শনাক্ত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সম্প্রতি হিরুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের সিরিয়াল ট্রেডিং নিয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করে ডিএসই। সেই তদন্ত দলও হিরুর নেতৃত্বে থাকা সিন্ডিকেটের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। কিন্তু এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

কে এই হিরু?

পুরো নাম মো. আবুল খায়ের হিরু। তিনি বর্তমানে সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক (ইপি) হিসেবে কর্মরত। তার কর্মস্থল আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগদান করেন সমবায় অধিদপ্তরে।

কী বলছে সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালায়?

সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯-তে স্পষ্ট করা হয়েছে ব্যবসা, ফটকা বিনিয়োগসহ পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের নিষেধাজ্ঞার ধরন বিষয়ে। ২০০২ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিধিমালাটি সংশোধিত হয়। বিধিমালার ১৫নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে ‘ফটকা ব্যবসা ও বিনিয়োগ’ বিষয়ে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী বিনিয়োগের ফটকা ব্যবসা করবেন না। যেসব সিকিউরিটিসের মূল্যমান অস্বাভাবিক ওঠা-নামার বদনাম আছে, ওইসব সিকিউরিটিজের অভ্যাসগতভাবে ক্রয়-বিক্রয় এই উপবিধির অধীনে বিনিয়োগের ফটকা ব্যবসা বুঝাবে।’

১৫(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা আছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী নিজে বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে এমন কোনো ব্যবসায় নিয়োগ করবেন না বা করবার অনুমতি দিবেন না, যা তার অফিসের দায়িত্ব পালনে তাকে বিব্রত বা প্রভাবিত করতে পারে।’

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সিকিউরিটিজ কমিশনের আইন ও বিধিমালায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে কারও ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী সবাই বিনিয়োগকারী। সরকারি কর্মচারীদের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বায়ত্তশাসিত বা অধিদপ্তর তার অধীনস্তদের দেখবে।’

সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, ‘আচরণ বিধিমালা যারা তৈরি করেছেন, বাস্তবায়নও তারা করবেন। এটি বাস্তবায়ন বা দেখার জন্য কমিশনের কাছে তো দায়িত্ব ন্যস্ত করেনি। এটি তাদের বিষয়। কমিশনের কাছে দায়িত্ব ন্যস্ত করলে তা দেখা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল খায়ের হিরু বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে কোনো বাধা নেই। একবার একটি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ জন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বাধা নেই।’ বিনিয়োগকারীদের পথে বসার বিষয়টিও তিনি করেননি। বরং বাজার ঘুরে দাঁড়ানো এবং লেনদেন বৃদ্ধিতে তার অবদান রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির প্রধান ছিলেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তদন্ত শেষে ২০১১ সালে দেয়া প্রতিবেদনে ২৫টি সুপারিশ করে। এর মধ্যে একটি ছিল ‘বিএসইসি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শেয়ার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার লেনদেন বা বেচাকেনা করতে পারবেন না।

কিন্তু তারা কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এজন্য চাকরি বিধিতে নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্তকরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। নিজ নামে, স্ত্রী, সন্তান, ভাইবোন, পিতামাতার নামে অথবা বেনামিতে শেয়ার লেনদেন করবেন না। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তারা শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারলেও প্লেসমেন্ট নিতে পারবেন না। বিনিয়োগের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট থাকবে এবং বিও অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ কত টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা নিজ নিজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।