জন্ম নিবন্ধন বাতিল করার নিয়ম ২০২২

শনিবার, মার্চ ১৯, ২০২২

একজন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার জন্ম সনদ অত্যন্ত জরুরী। একটি দেশের নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রমাণের সময় জাতীয় পরিচয় পত্রের পরেই জন্ম নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন সুনাগরিক হিসেবে আপনার একটিমাত্র জন্ম নিবন্ধন তৈরি করার বৈধতা রয়েছে।

তবে অনেক সময় ভুলবশত আমরা একাধিক জন্ম নিবন্ধন দাখিল করেছে। অবস্থায় আপনি অবশ্যই চাইবেন কোন বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতে তাই আপনাকে এই অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা এখানে জন্ম নিবন্ধন একের অধিক হলে তা কিভাবে বাতিল করবেন তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করবো আপনি আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়বেন এবং আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করবেন।

জন্ম নিবন্ধন বাতিল করবেন কেন?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্ম নিবন্ধন সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ভিসা ইত্যাদি করতে আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্ড প্রয়োজন হবে। তবে জন্ম নিবন্ধন করার পরে যদি দেখেন একের অধিক বার ডুবলিকেট হয়ে গেছে তাহলে আপনাকে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাতিল করতে হবে। কেননা ডুবলিকেট জন্ম সনদ থাকার অর্থ হলো আপনার বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়া আপনি কোনটি আসল জন্ম নিবন্ধন কার্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন না। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একজন ব্যক্তির দুটি থাকা দণ্ডনীয় অপরাধ এই আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি 5000 টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

2019 সালে এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে জন্ম নিবন্ধন সংখ্যা বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে যা এক বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে একই ব্যক্তির একাধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ দাখিল তারই প্রেক্ষিতে 2019 সালে জন্ম নিবন্ধন সিস্টেম চালু করা হয় অর্থাৎ অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

কিভাবে জন্ম নিবন্ধন বাতিল করবেন?

আপনার যদি একের অধিক জন্ম নিবন্ধন সনদ হয়ে থাকে তাহলে আপনি তা অবশ্যই বাতিল করতে আগ্রহী হবেন তবে সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে চাইলে আমাদের নিচের নির্দেশনা মেনে চলুন আমরা এখানে বিস্তারিতভাবে সকল তথ্য প্রদান করেছি।

ওয়েব সাইটে প্রবেশ

বাংলাদেশ সরকার অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পর্কিত সকল কাজ পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট চালু করেছে যে ওয়েবসাইটে ভিজিট করে আপনি উপযুক্ত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আপনার জন্ম নিবন্ধন বাতিল করতে পারবেন।

প্রথমেই আপনাকে www.bdris.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনাকে জন্ম নিবন্ধন নামক একটি মেনু দেখতে পাবেন সেখানে ক্লিক করুন।

Screenshot-2022-03-17-at-11-21-14-AM
Screenshot-2022-03-17-at-11-21-19-AM

জন্ম সনদ নির্ধারণ করুন

আপনি যেহেতু জন্ম সনদ বাতিল করতে চান তাহলে সার্টিফিকেটের বাতিলের আবেদন অপশনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আপনার জন্ম সনদ নির্ধারণ করা অর্থাৎ আপনি যে জন্ম সনদ বাতিল করতে চাচ্ছেন তার নম্বরটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রদান করুন জন্ম তারিখ লিখুন।

উপরের তথ্যগুলো যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্মনিবন্ধনের সকল তথ্য অর্থাৎ ব্যক্তির নাম পিতার নাম মাতার নাম সহ সবকিছু দেখানো হবে।

Screenshot-2022-03-17-at-11-21-28-AM

এরপর ডান পাশে থাকা নীল রঙের নির্বাচন করুন অপশনে ক্লিক করুন এই অপশনে ক্লিক করার পর আপনার পদক্ষেপকে নিশ্চিত করতে বলা হবে নিশ্চিত হলেন বাটনে ক্লিক করুন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ এ প্রবেশ করুন।

নিবন্ধন কার্যালয় ঠিকানা প্রদান করুন

আপনি কনফার্ম বাটনে ক্লিক করার পর আপনাকে নিবন্ধন কার্যালয় ঠিকানা প্রদান করতে বলা হবে। উল্লেখ্য যেযে কার্যালয় থেকে আপনার জন্ম সনদ দাখিল করা হয়েছিল ওই কার্যালয় থেকে আবার তা বাতিল করতে হবে।

অন্য কোন নাম দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না আপনি যদি ভুলে যান কোন কার্যালয় থেকে জন্ম সনদ দাখিল করেছেন তাহলে জন্ম সনদের ওপরের অংশে দেখতে পাবেন নাম সে কার্যালয় ঠিকানা যথাযথভাবে প্রদান করার চেষ্টা করুন।

Screenshot-2022-03-17-at-11-21-35-AM

ঠিকানা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রথমে দেশ ও বিভাগের নাম উপজেলা সিটি কর্পোরেশন অথবা ক্যান্টনমেন্ট এর নাম ওয়ার্ড বা অঞ্চলের নাম যথাযথভাবে প্রদান করুন।

জন্ম সনদ বাতিলের কারণ ও আবেদনকারী তথ্য প্রদান

আলোচনায় অংশ আপনি কোন নিবন্ধন সনদ বাতিল করতে চাচ্ছেন তার কারণ কী তা সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে তথ্য জমা দিতে হবে তবে ওয়েবসাইটে বর্তমানে শুধু একটি কারণে বাতিল করা অপশনটি চালু রয়েছে সেটি হলো ডুপ্লিকেট কপি অর্থাৎ শুধুমাত্র জন্ম সনদের 12 বা তারও বেশি থাকলে কেবল আপনি জন্ম সনদ বাতিল করতে পারবেন।

আপনি যদি নিজের জন্ম সনদ বাতিলের জন্য আবেদন করে থাকেন এবং আপনার বয়স যদি 18 উপুড় হয়ে থাকে তবে নিজ অপশন প্রথমে নির্ধারণ করুন না হলে পিতা-মাতা অপশন নির্ধারণ করুন।

Screenshot-2022-03-17-at-11-21-44-AM

নিজ অপশন টি ক্লিক করলে আবেদনকারীর নাম এর স্থলে জন্ম সনদ অনুযায়ী আপনার নাম আসবে পিতা-মাতা নির্ধারণ করলেও জন্ম সনদ অনুযায়ী তাদের নাম আসবে তবে যদি অন্য কারো হয়ে আবেদন করতে গিয়ে অভিভাবক অপশন সিলেক্ট করেন তাহলে আলাদা করে নিজের নাম লিখতে হবে।

আবেদন কপি প্রিন্ট করুন

এটি হলো আবেদনের শেষ ধাপ সবশেষে আপনার আবেদনপত্রের একটি নম্বর উল্লেখিত থাকবে নম্বরটি সংরক্ষণ করুন এই আবেদনটি প্রিন্ট করে আপনি যে কার্যালয় জন্ম সনদ বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন সেখানে জমা দিন জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ রয়েছে।

বাংলা মনে রাখবেন আবেদনের সাথে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসবে এবং আপনাকে আবেদনপত্রটি সরাসরি প্রিন্ট করতে পারবেন এবং তা পিডিএফ কপি ও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি নাগরিকের জন্য জোরে একটি জিনিস আপনি যে এদেশে জন্মেছেন এবং এদেশের নাগরিক তা প্রমাণ এর জন্ম সনদের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাই প্রত্যেক বাবা-মার উচিত জন্মের 45 দিনের মধ্যে শিশুদের জন্ম সনদ তৈরি করা কিন্তু অনেক সময় জন্মসনদ তৈরিতে জটিলতা দেখা দেয় এই অবস্থায় আপনার নিকটস্থ নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন অথবা পৌরসভাইউনিয়নের অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।