ফিতনা থেকে বাঁচতে ৪টি কাজ করুন

শুক্রবার, জানুয়ারি ৭, ২০২২

ধর্ম ডেস্ক: চলমান এই শেষ জামানায় আমরা চারটি কাজ করলে ফিতনা থেকে কিছুটা হলেও বেঁচে থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ।

আলিমগণের স্মরণাপন্ন হোন : দ্বীন সম্পর্কে না জানলে বাঁচতে পারবেন না। প্রকৃত দ্বীন শিখতে চাইলে আলিমগণের স্মরণাপন্ন হোন। একজন হকপন্থি আলিমের সঙ্গে বসে রোগীর ন্যায় ডাক্তারের নিকট নিজের অন্তরের রোগগুলো তুলে ধরুন। আশা করা যায়, যথাযথ সমাধান মিলবে। তবে মনে রাখবেন, ডাক্তারের জ্ঞানের গভীরতা যত বেশি, অভিজ্ঞতা যত বেশি তত তাড়াতাড়ি কিন্তু রোগী সুস্থ হয়।

নীরব থাকুন : ফিতনা থেকে বাঁচতে নীরব থাকার বিকল্প নেই। জানলে বুঝলেও চুপ থাকুন। মক্কার জীবনে রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবারা সব সহ্য করেছেন। সর্বোচ্চ যন্ত্রণার পরেও আবেগ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তাদের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আজকের সমাজের এই পরিবেশটাও আমাদের জন্য অনুকূলে নয়।

দয়া করে সিরাতটা একটু পড়ে দেখুন। আমরা সিরাতের কোন অংশে আছি। দ্বীন সম্পর্কে পড়ায় সময় ব্যয় করলেও কেউ অন্তত দ্বীন নিয়ে মত প্রকাশের সময় পেত না। ফেসবুকে অধিক সময় দেয়াই প্রমাণ করে তার দ্বীনের প্রতি বিশেষ চাহিদা নেই। দ্বীনের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করলে কেউ আর থেমে থাকবে না। সে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বাকি সব ভুলে দ্বীনের গভীরতার দিকে ছুটতে শুরু করবে।

পড়ুন এবং পড়ুন : কোরআনটা অন্তত অর্থসহ পড়ার জন্য সময় বের করুন। আমাদের সস্তা আবেগের জন্য আলেমরা এখন আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আমরা চাইলেও প্রজ্ঞাবান আলিম থেকে দ্বীন শেখার সুযোগ পাচ্ছি না। দ্বীন নিয়ে বাড়াবাড়ি আমাদের সঙ্গে আলিমদের দূরত্ব তৈরি করে দিয়েছে।

তাই নিজের দ্বীনদারিতা প্রদর্শনের চাইতে পড়তে চেষ্টা করুন। বইপত্র কিনে ঈমান-আকিদা ঠিক করুন। এসব না পারলে ঘরে বসে চুপচাপ আমল করতে থাকুন বা নিজের বাহ্যিক জীবনের কাজকর্ম করুন। দ্বীন নিয়ে না জেনে যা-তা ফেসবুকে লেখা বা যারতার সঙ্গে বলার দরকার নেই। যা বলবেন বা লিখবেন তা অবশ্যই জানার পর।

বেশি বেশি দোয়া করুন : আল্লাহর নিকট অধিক পরিমাণে দোয়া করতে থাকুন। সঠিক পথের দিশা চাইতে থাকুন। দোয়ার গুরুত্ব বোঝানোর মতো জ্ঞান আমার নেই। তবে রাসুলের (সা.) সেই হাদিসটা স্মরণ করাতে চাই। যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া হচ্ছে ইবাদাতের মগজ বা মূল।’ (তিরমিজি: ৩৩৭১)

এক্ষেত্রে আপনার আর আমার জন্য সর্বোত্তম দোয়া হলো সুরা ফাতিহা। যে দোয়া আসমান থেকে ফেরত দেয়া হয় না। এর অর্থটা মুখস্থ করে নিন। তারপর থেকে আল্লাহর নিকট নিজের জন্য কিছু চান বা না চান, গুরুত্ব সহকারে নিজের প্রার্থনায় শুধু ফাতিহাটুকু কেঁদে কেঁদে পাঠ করুন। কেননা অবশ্যই এতে রয়েছে শরীর এবং রূহের শেফা বা প্রতিষেধক।

এতসব করে আল্লাহ যদি দেখেন আপনি প্রকৃত অর্থেই দ্বীনের প্রতি আগ্রহী, তবে হয়তো আল্লাহ আপনাকে এবং আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন আর প্রকৃত দ্বীনের অনুসরণ করার তাওফিক দিবেন ইনশাআল্লাহ।