তিতাস ব্যবস্থাপক মহিদুরের স্ত্রী শাহানার এত সম্পদ!

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২১

ঢাকা: তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের স্টেশন কন্ট্রোল শাখার ব্যবস্থাপক মহিদুর রহমানের স্ত্রী সাফিয়া শাহানা। পেশায় গৃহিনী হলেও অঢেল সম্পদের মালিক তিনি। কাগজে কলমে চার কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা থাকলেও বাস্তবে যার মূল্য কয়েকগুণ বেশি।

দালিলিক নথিপত্রে সাফিয়ার নামে রাজধানীর গুলশানের উলন মৌজায় দেড় কাঠা জমিতে ৬ তলা ১টি বাড়ি, খিলগাঁও মৌজায় শূন্য দশমিক ৫০ কাঠা জমি ও ঢাকার দক্ষিণখানে ২ কাঠা জমির মালিকানা রয়েছে।

এছাড়া গুলশান বারিধারায় ১টি ফ্ল্যাট, ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৩৭ শতাংশ জমি, গাজীপুর কুনিয়ার বড়বাড়িতে জ্যারামো সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের ৩৩.৩৩ শতাংশ মালিকানা ও যমুনা সিএনজি স্টেশনের (ইউনিট-২) ৪৫ শতাংশ মালিকানা, ব্যক্তিগত একটি গাড়ি ও ফার্নিচারসহ ৪ কোটি ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৩২ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সন্ধান মিলেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে।

ওই সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৬১ টাকার অবৈধ সম্পদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় এবং দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করার অভিযোগে এরই মধ্যে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের স্টেশন কন্ট্রোল শাখার ব্যবস্থাপক মহিদুর রহমান ও তার স্ত্রী সাফিয়া শাহানার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় স্ত্রীকে প্রধান আসামি ও স্বামী মহিদুর রহমানকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে। ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান সরকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২৮ নভেম্বর মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে দুদক। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপক (মিটারিং অ্যান্ড ভিজিল্যান্স শাখা) বর্তমান স্টেশন কন্ট্রোল শাখার ব্যবস্থাপক মহিদুর রহমান নিজ নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৪ লাখ ৭১ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

অনুসন্ধানে তার নামে ঢাকার খিলগাঁও মৌজায় টিনশেড স্থাপনাসহ ২.৫ কাঠা জমি, খিলগাঁও মৌজায় ২.৬ কাঠা জমি, বাড্ডার কাঁঠালদিয়া মৌজায় ০.৮০ কাঠা জমি ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার বাগকাটারী মৌজায় ৮৯ শতাংশ জমিসহ মোট ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫৯ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং আসবাবপত্র, হাতে নগদ ও ব্যাংকে জমা বাবদ ৮১ লাখ ১৪ হাজার টাকাসহ ১ কোটি ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬২৮ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধান পর্যায়ে তার ঋণ, আয় ও পারিবারিক ব্যয় বাদ দিলে ৩৪ লাখ ৭১ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস কিংবা রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছিল।