স্বার্থ-সঙ্ঘাতের দুনিয়ায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

শুক্রবার, নভেম্বর ৫, ২০২১

গোলাম মাওলা রনি
বার্ধ্যকের নানা জটিলতা ইদানীং আমায় নিদারুণভাবে পেয়ে বসেছে। কথায় কথায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া, বারবার একই ভুল করা এবং নিত্যকার কর্মকাণ্ডের টুকটাক বিষয়াদি ভুলে যাওয়ার ঘটনা দেখে আমার প্রিয়জনরা প্রায়ই বিরক্ত হয়ে পড়েন। অথচ আমার যে বয়স তাতে এমনটি হওয়ার কথা নয়। আমার বয়সী অনেক নারী-পুরুষকে যখন দেখি পঁচিশ বছরের যুবক-যুবতীর মতো রং ঢং করতে তখন কেন আমার কাছে নিজের শরীরটাকে মস্তবড় বোঝা মনে হয় এবং মনটি কেন বারবার কবরস্থানের দিকে ধাবিত হয় তা বুঝে উঠতে পারি না। কেন দীর্ঘায়ু লাভের আশা আমাকে তাড়িত করে না অথবা ধন-সম্পদ-কামনা-বাসনা-ভোগ-বিলাসের মোহময়তা কেন আমার শরীর-মন-মস্তিষ্ককে উজ্জীবিত বা উত্তেজিত করে পার্থিব কর্মে নিবিষ্ট করে না তা নিয়ে যতই চিন্তাভাবনা করি ততই নিত্যনতুন বৈরাগ্য আমাকে আক্রমণ করে বসে।

অথচ আমি তো এমন ছিলাম না। করোনার মহামারী শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি ছিলাম জীবনযুদ্ধে মরণপণ লড়াইরত এক সংগ্রামী মানুষ। সেই ১৯৮৭ সাল থেকে যে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম তা আজও একই গতিতে চলছে। এখনো দৈনিক ১৮ ঘণ্টা শ্রম করি। কোনো সাপ্তাহিক ছুটি, বিনোদন বা আনন্দফুর্তির পেছনে সময় নষ্ট করি না। কিন্তু আজ থেকে দুই-তিন বছর আগে দৈনিক ১৮ ঘণ্টার শ্রমে যে কর্মশক্তি ছিল এবং কর্মের বিনিময়ে যে সফলতা ছিল তা এখন কমে দশ ভাগের এক ভাগে দাঁড়িয়েছে। আগেকার দিনে চলতে ফিরতে কিংবা কাজকর্মে কোনো বাধা এলে তা অতিক্রম করার প্রত্যয় ছিল। কিন্তু এখন সব বাধাবিঘ্ন পাশ কাটিয়ে ভিন্নপথে হাঁটার যে নমনীয় কৌশল অনুসরণ করি তা আমার সারা জীবনের কর্মপন্থা, আচার-আচরণ এবং অভ্যাসের সম্পূর্ণ বিপরীত।

নিজের সম্পর্কে আমার উল্লিখিত আত্মোপলব্ধির কাহিনী আজ আপনাদের শোনানোর পেছনে দু’টি কারণ রয়েছে। প্রথম কারণ হলো, উনিশ-কুড়ি বছর বয়সী একজন তরুণীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কিভাবে আমাকে অশ্রুসিক্ত করছে এবং দ্বিতীয় কারণ হলো- জনৈক বুদ্ধিজীবী যখন বিএনপি নেতাদের ভগ্নস্বাস্থ্য এবং বুদ্ধির দৈন্য নিয়ে আমার সাথে কথা বলছিলেন তখন আবেগতাড়িত হয়ে যে উত্তর দিয়েছিলাম তা ছিল মূলত আমারই বাস্তবজীবনের প্রতিচ্ছবি। দুটো কাহিনীর মধ্যে বুদ্ধিজীবীর কাহিনীটি আগে বলব। তারপর তরুণীর ভালোবাসার গল্প দিয়ে নিবন্ধের ইতি টানব।

আমি যে ভদ্রলোকের কথা বলছি তিনি রাজনীতি করেন না এবং কোনোকালে আদৌ করেছেন কিনা তাও জানি না। তবে তিনি হাল আমলের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য হরদম চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। ভদ্রলোক আমাকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন বটে কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদ সম্পর্কে তার ধারণা খুবই বাজে প্রকৃতির। তার নামের আগে একটি ডক্টরেট ডিগ্রি রয়েছে এবং তার বয়স সত্তর বছর পার হলেও ভাবনাহীন জীবন এবং আনুষঙ্গিক ভোগ বিলাসের কারণে তিনি পঞ্চাশ বছর বয়সী তাগড়া মানুষের মতো ভাবসাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, এ দেশের রাজনীতিবিদরা পড়াশোনা করে না, অসৎ ও অসংলগ্ন জীবনযাপন করে এবং তারা প্রায়ই দাম্ভিক, অসামাজিক এবং মুর্খের মতো আচরণ করে। সুতরাং ভদ্রলোক যখন কোনো টকশো বা সভাসমিতিতে বক্তা হিসেবে নিমন্ত্রিত হন তখন প্রতিপক্ষের বক্তা হিসেবে যদি কোনো রাজনীতিবিদকে পান তবে এক ধরনের অস্বস্তি তাকে পেয়ে বসে।

উল্লিখিত ভদ্রলোক অতি সম্প্রতি বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সাথে একটি টকশোতে অংশগ্রহণ করার পর নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার জন্য আমাকে ফোন করেন। ভদ্রলোক প্রথমেই বিএনপি নেতার নাম ধরে এমনভাবে কথা বলতে আরম্ভ করেন যা শুনে মনে হবে বিএনপির নেতা বয়সে তার চেয়ে দুই যুগের ছোট হবেন এবং কোনোকালে হয়তো তার অধীন চাকরি-বাকরি করতেন। তো ভদ্রলোক বলতে আরম্ভ করলেন, লোকটি সম্পর্কে যা ধারণা করেছিলাম বাস্তবের অবস্থা তো আরো করুণ। আগের ত্যাজফ্যাজ নেই, কথাও এলোমেলো হয়ে গেছে। চুল পেকে একদম বুড়োতে রূপান্তরিত হয়েছে। চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে ইত্যাদি।

ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি বললাম, আপনি যার কথা বলছেন তিনি বয়সে আপনার প্রায় সমসাময়িক। গত বারো বছরে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ মামলা হয়েছে এবং ১/১১-র পর থেকে এ যাবৎকালে দশ-বারো বার গ্রেফতার হয়েছেন, রিমান্ডে গেছেন এবং জেল খেটেছেন। তার স্থানে যদি বারো বছর আগে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকত তা হলে ২০২১ সালে আপনি দেখতেন যে বাঘটি নির্ঘাত ভয়-আতঙ্ক এবং ঘৃণায় হয় মারা গেছে নতুবা আত্মহত্যা করেছে। আর কোনো মতে যদি বাঘটি প্রাণে বেঁচে যেত তবে তার কণ্ঠ দিয়ে মিউ মিউ ছাড়া অন্য কোনো ধ্বনি বের হতো না। এখন বলুন, আপনি কি তার মুখ থেকে মিউ মিউ বা ম্যাওউ জাতীয় শব্দ শুনেছেন কিনা। আমার কথা শুনে ভদ্রলোক কী বুঝলেন জানি না, তবে খুব খুশি হলেন এবং প্রাণখুলে অনেকক্ষণ হাসলেন।

ভদ্রলোকের সাথে কথা শেষ করার পরই নিজেকে নিয়ে আমার ভারি চিন্তা হলো। আমি স্মরণ করার চেষ্টা করলাম আমার সফলতম কর্মব্যস্ত দিনগুলো। ভোর ৫টায় বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল ৭টার মধ্যে সাভারের ফ্যাক্টরিতে পৌঁছানো। হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর শত অভাব-অভিযোগ, হইচই, ক্রেতাদের উপর্যুপরি চাপ, ব্যাংক, বন্দর, কাস্টমসের হাজারো জটিলতা কাটিয়ে মাসে শত কোটি টাকার পণ্য রফতানি ছাড়াও অন্যান্য ব্যবসা, বিদেশে ভ্রমণে গিয়ে এক নাগাড়ে এক সপ্তাহের নির্ঘুম কর্মমুখর সফর, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, টকশো, পরিবারকে সময় দেয়া ইত্যাদি যত্তোসব কর্ম! কই কোথাও তো ক্লান্তি অনুভব করিনি, ছোটখাটো ভুলও তো হয়নি।

বরং এত কিছুর পরও প্রতি সপ্তাহে তিন-চারটি জাতীয় দৈনিকে উপসম্পাদকীয় লিখতাম এবং প্রতিদিন গড়ে দুই-তিনটা করে টকশোতে অংশগ্রহণ করতাম। আমার এত্তোসব কাজের মধ্যেও সব কিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলত। সব সময় স্যুটেট বুটেট থাকতাম। এখনকার মতো চশমা লাগত না কিংবা হাজারো সতর্কতা সত্তে¡ও প্যান্টের চেন লাগাতে এখন যেভাবে মাঝে মধ্যে ভুলে যাই অমনটি তো সেকালে কল্পনাও করতে পারতাম না। একসময় নিজের

স্মরণশক্তির জন্য বড়াই করতাম। আর এখন চমশা-ম্যানিব্যাগ-কলম ইত্যাদি খোঁজার জন্য রোজ কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় অপব্যয় হয়। একটু কথা বললে হাঁপানির ব্যামো শুরু হয় এবং খাবার দাবার গ্রহণে সামান্য ত্রুটি হলে শরীরের মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড় এবং পেটের মধ্যে সুনামি আরম্ভ হয়ে যায়। আমার এই যে বিবর্তন তার জন্য কি আমি দায়ী- নাকি দেশের রাজনীতি বা বৈশ্বিক মহামারী দায়ী। যে মানুষটি তরুণ বয়সে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যশ-খ্যাতি-সফলতা এবং বিত্ত-বৈভব অর্জনের একটি কাক্সিক্ষত সীমায় পৌঁছে গেছে তাকে কেন যুবা বয়সে বার্ধক্যের জটিলতা গ্রাস করেছে সেই প্রশ্নের জবাব কার কাছে চাইব!

আলোচনার এই পর্যায়ে এবার দ্বিতীয় প্রসঙ্গ অর্থাৎ আমাকে ঘিরে উনিশ-কুড়ি বছরের এক তরুণীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাহিনী আপনাদের বলব। আজ থেকে প্রায় বছর খানেক আগের ঘটনা। সিরাজগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জনৈক ভদ্রলোক আমাকে ফোন করলেন। বললেন, তিনি আমার নিদারুণ ভক্ত। আমার সাথে দেখা করতে চান। তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার অফিসের ঠিকানা দিয়ে কথা শেষ করলাম। কিছুক্ষণ পর ভদ্রলোক আবার ফোন দিয়ে জানালেন যে, তার একটি দুধেল গাভী রয়েছে এবং কয়েক দিন আগে তার বাড়িতে একটি মৌচাক ভাঙা হয়েছে। সুতরাং তিনি আমার জন্য কিছু দুধ, মধু এবং সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঘি উপহার হিসেবে নিয়ে আসার জন্য অনুমতি চান। আমি তাকে সাধ্যমতো বারণ করলাম। কিন্তু তিনি এমন সব আবেগী কথাবার্তা শুরু করলেন যার ফলে আমি একরকম বাধ্য হয়েই তার প্রস্তাবে সম্মতি জানালাম।

উল্লিখিত ঘটনার সপ্তাহখানেক পর একদিন খুব সকালে আমার বাসায় ভদ্রলোক তার উনিশ-কুড়ি বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে হাজির হলেন এবং সাথে আনলেন পূর্ব প্রতিশ্রুত উপহার সামগ্রী। আমি তাদের দেখে খানিকটা বিরক্ত এবং কিছুটা আশ্চর্য হলাম। বিরক্ত হলাম অত সকালে বাসায় এসে আমাদের ঘুম ভাঙানোর জন্য এবং আশ্চর্য হলাম একথা ভেবে যে, তারা আমার বাসার ঠিকানা পেল কিভাবে। কিন্তু বাবা এবং মেয়ের মুখের হাসি এবং তাদের সরলতা আমাকে এতটা মুগ্ধ করল যে, অল্প কিছুক্ষণ বাদে মনে হলো তারা আমার পরম আত্মীয়। তাদের কথাবার্তা এবং পোশাক দেখে মনে হলো তারা সচ্ছল নয় আবার অভাবীও নয়। অনেকটা কষ্টে হয়তো নিজেদের সম্মান বজায় রেখে চলেন। ভদ্রলোক পেশায় একজন গ্রাম্য হোমিও চিকিৎসক এবং মেয়েটি স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ে।

কথাবার্তার শুরুতে পিতা জানালেন, তার কন্যাটি ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে আমার লেখা নিয়মিত পাঠ করে এবং টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখে। মেয়েটির শখ ছিল, বড় হয়ে সে একদিন আমাকে দেখতে আসবে। কিন্তু গত এক বছর আগে তার শরীরে অদ্ভুত ভয়ঙ্কর একটি রোগ বাসা বেঁধেছে। তাদের শক্তিসামর্থ্য অনুযায়ী তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে চিকিৎসা করানোর জন্য। কিন্তু সব ডাক্তারেরই একই জবাব, এই রোগ ভালো হওয়ার নয়। আমি রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে ভদ্রলোক জানালেন যে, মেয়েটির একটি পায়ের রগ শক্ত হয়ে গেছে। ফলে রোগাক্রান্ত পাটি কোনোমতে ভাঁজ করা যায় না এবং সেটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে।

ভদ্রলোকের কথা শুনে আমার এবং আমার স্ত্রীর মুখ শুকিয়ে গেল। আমরা মেয়েটির মুখের দিকে তাকালাম। তার মুখে ভাবনাহীন নির্মল হাসি। ভদ্রলোক আবার বলতে আরম্ভ করলেন, তার মেয়েটি অতিশয় মেধাবী। অসুস্থ পা নিয়ে সে নিয়মিত কলেজে যায়। শিক্ষকরাও তাকে অনেক পছন্দ করেন। জীবন সম্পর্কে তার কোনো হতাশা নেই- ইত্যাদি। কয়েক দিন আগে তার মেয়ে তার নিকট বায়না ধরল বাবা চলো রনি আঙ্কেলকে দেখে আসি। এখন তো একটু চলাফেরা করতে পারি। আগামীতে যদি পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যাই তবে তো ঢাকা যাওয়া হবে না। মেয়ের সেই আব্দার মেটানোর জন্যই ভদ্রলোক কালরাতের বাসে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকা এসে পৌঁছান ভোররাতে। তারপর ঠিকানা অনুযায়ী আমার অফিসের নিচে গিয়ে যখন পৌঁছান তখনো সূর্য ওঠেনি।

বিল্ডিংয়ের দারোয়ানরা তাদের কথা শুনে আমার বাসার ঠিকানা দিলে তারা রিকশায় এখানে চলে আসেন।
ভদ্রলোকের কথা শুনে অনেকটা বিহ্বল হয়ে পড়লাম। মেয়েটির চিকিৎসার বিষয়ে সাহায্য করতে চাইলাম। তারা অতি বিনয়ের সাথে জানালেন যে, তারা কেবল আমাকে দেখার জন্যই ঢাকা এসেছেন। এরপর আমাদের সাথে ঘণ্টাখানেক সময় কাটিয়ে তারা চলে গেলেন। বাড়ি পৌঁছে ফোনে জানালেন যে, তারা নিরাপদে পৌঁছে গেছেন। এরপর দুই-তিনবার তাদের সাথে কুশল বিনিময় হয়েছে মোবাইলে। কিন্তু গত সাত-আট মাসে তাদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফলে বাস্তব জীবনের হাজারো ব্যস্ততায় সেই অসুস্থ মেয়েটি এবং তার বাবাকে ভুলতে বসেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে হঠাৎ করে কয়েক দিন আগে মেয়েটি আমাকে ফোন করল এবং ফোনে যে কথা বলল তা শুনে নিজের অজান্তে অশ্রুভারাক্রান্ত হয়ে পড়লাম।

আলোচনার শুরুতে বলেছিলাম, বার্ধক্যের অনেক লক্ষণ আমায় পেয়ে বসেছে। এর মধ্যে প্রধানতম সমস্যা হলো কথা বলতে গেলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। কারো সাথে দুই তিন মিনিট কথা বললে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়ি। ওষুধ পথ্য ডাক্তার কবিরাজ কোনো কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছি না।

এ অবস্থায় আমার আবেগী মন আশা করে আমার প্রিয়জনেরা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কষ্টটা অনুভব করুক এবং আমাকে সান্ত্বনা দিক। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমার প্রিয়জনেরা আমার সব কিছু দেখতে পায় কেবলমাত্র আমার অসুস্থতাটিই তাদের চোখে পড়ে না। ফলে সিরাজগঞ্জের অজ পাড়াগাঁয়ের অসুস্থ তরুণী মেয়েটি যখন ফোন করে বলল, আঙ্কেল! সবসময় ইউটিউবে আপনার বক্তব্য শুনি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে দেখছি আপনি কথা বলতে পারছেন না। কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে, গলা কাঁপছে! আঙ্কেল আপনার কী হয়েছে! সম্মানিত পাঠক! এবার আপনারাই বলুন আমার জায়গায় যদি আপনারা থাকতেন তবে আপনাদের কেমন লাগত।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য