তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা সরকারের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ : রিজভী

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২০

ঢাকা: এক শাসরুদ্ধকর দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, `রাষ্ট্রীয় দুঃশাসনের পায়ের তলে অশ্রুপাত করছে মানবতা। একদিকে স্বেচ্ছাচারি একনায়ক শাসকের শোষণে নিষ্পেষিত জনগণ, অপরদিকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল মহামারির সর্বগ্রাসী থাবা।’

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘বহু জেলায় বন্যায় সর্বস্বহারা মানুষের হাহাকারের মধ্যে দেশজুড়ে চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ। লাগামহীন বেড়েই চলেছে চাল-ডাল-আটা-তেল, কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। দেশ নিপতিত হয়েছে ভয়ংকর বিপদের মধ্যে। নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে এখন ‘যে কোনও মূল্যে’ ক্ষমতায় থাকার জন্য আগ্রাসী মনোভাব, দমন-দলন, প্রতিহিংসা ও নির্মুলের রাজনীতিতে মত্ত তারা। এটা সর্বজনবিদিত যে, হিংসা-মিথ্যাচার, কূটকৌশল আর প্রতিহিংসার অসুস্থ রাজনীতি আওয়ামী লীগের মজ্জাগত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাদের নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্যে বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঘৃণার উদগীরণ, কুৎসা রটনা, অসহিষ্ণুতা ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ প্রকট হয়ে উঠেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকার সমস্ত গণমাধ্যমকে কব্জা করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার জন্য জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার-প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় লন্ডন থেকে প্রদত্ত এক ভিডিও বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভলগ্নে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘মিথ্যাচার, প্রতিহিংসা এবং কূটতর্কের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, ব্লেমগেমের রাজনীতির পরিবর্তে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করুন। স্বাধীনতার ঘোষকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বন্ধ করে বরং তাঁর যুগান্তকারী ভালো কাজের মতো আপনারাও ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন।’ এই আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য আমরা ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

রিজভী বলেন, ‘এই ভয়াল মহাক্রান্তিকালে দেশবাসী, সরকার, সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। তিনি বলেন, ‘গত এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, দেশে এখন সরকারি বয়ানের বাইরে জনগণের কিছু বলার কিংবা গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। অবৈধ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারটি একাধারে প্রায় এক যুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। একটি রাজনৈতিক দলের একটানা এতদিন ক্ষমতায় থাকার পর, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের পরিবর্তে, এতদিন তাদের নিজেদের সাফল্যের কথা বলার মতো সক্ষমতা অর্জন করার কথা ছিল। অথচ গণতন্ত্র হত্যা, মানুষ খুন, গুম, দুর্নীতি আর টাকা পাচার ছাড়া গর্ব করে বলার মতো এই সরকারের কোনও সাফল্য নেই। গণমাধ্যমে এতদিন তারা ‘উন্নয়ন’ ‘উন্নয়ন’ জিগির তুলতো। অথচ দেখা যাচ্ছে এরা এতদিন জনগণের সঙ্গে শুধু প্রতারণাই করেছে। বাস্তবতা হলো, প্রতিটি মন্ত্রণালয়, প্রতিটি দপ্তর-অধিদপ্তর, প্রতিটি সেক্টর, প্রতিটি বিভাগ সরকারি বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতি-লুটপাট-অবিচার-অনাচার আর প্রতারণায় নিমজ্জিত। সর্বক্ষেত্রে এমন পাহাড়সম দুর্নীতি-প্রতারণা আর ব্যর্থতা আড়ালের জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অত্যন্ত দৃষ্টিকটূভাবে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে হঠাৎ করেই আবারও দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে।’’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছে। বিচারের রায় কার্যকর করতে গিয়ে অভিযুক্তদের একের পর এক ফাঁসির রায়ও কার্যকর করছে। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের পরও প্রায়শই আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর জাসদ নিজেরাই একে অপরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত। শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সময়কার সেনাপ্রধান এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জেনারেল শফিউল্লাহ প্রকাশ্যেই বলেছেন, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শেখ সেলিম জড়িত।

পাল্টা জবাবে, শেখ সেলিম খোদ জেনারেল শফিউল্লাহর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের জন্য জাসদ দায়ী। আবার জাসদের অভিযোগ, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের। তারা প্রমাণ দিয়ে বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে একদিকে তারা নিজেদের মধ্যে বাগযুদ্ধে লিপ্ত অপরদিকে চলছে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি দেখলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার হঠাৎ করেই শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষকের নাম জড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। আমরা মনে করি, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই স্বাধীনতার ঘোষকের সংশ্লিষ্টতার কোনই তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে, শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারের জবাব দিয়ে ভিত্তিহীন একটি অভিযোগের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে বিএনপি মনে করে না। কারণ, শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় ইতিহাস রচিত হয় না, ইতিহাস উদ্ভাসিত হয় তার আপন আলোয়। ফলে শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আওয়ামী লীগ আনন্দিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের কাছে শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদেরের কথার গুরুত্ব নেই, জনগণ তাদের কথা বিশ্বাসও করেনা। জনগণ যদি তাদের কথা বিশ্বাস করতো তাহলে বারবার তাদেরকে বিনা ভোটে কিংবা নিশিরাতের হিসাব-নিকাশে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে হতো না।’’

রিজভী বলেন, ‘তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী অপশক্তির অতীত কার্যকলাপে প্রমাণিত- যখনই আওয়ামী লীগ তাদের কোনও ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়, গণবিরোধী কোনও অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায় কিংবা দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে তখনই তারা একটি অহেতুক ইস্যু সামনে এনে জনগণকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। তাই এবারও হঠাৎ করেই ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ এবং ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’র বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার উস্কে দিয়ে আওয়ামী লীগ হয়তো দেশ এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনও অপতৎপরতায় লিপ্ত। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, দুটি সরকারেরই একই চরিত্র। দলটির শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে বলেছিলেন ‘চোরের খনি’ আর সেই ‘চোরের খনি’ এখন শেখ হাসিনার আমলে ‘ডাকাতের খনি’তে পরিণত হয়েছে।’’

রিজভী আরও বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই আহ্বান কার্যকর করার জন্য আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেছেন, ‘শহীদ জিয়া যেভাবে ‘প্রত্যেক শিশুর জন্য বিনামূল্যে ‘বিসিজি টিকা’ দানের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন. একইভাবে বর্তমানেও দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। এটি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার ইস্যু হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। কয়েকটি দেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রায় শেষ ধাপে রয়েছে। তাই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের থার্ড ফেজের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য সকল বিকল্প সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন’/জি-এ-ভি-আই এর সদস্য হতে হবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভ্যাকসিন গবেষণা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে, যাতে যথাসময়ে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশকে সমস্যায় পড়তে না হয়।’’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন শেখ হাসিনা সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহে দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন না। মানুষের জীবনকে নিয়ে দুর্নীতি করবেন না। করোনা টেস্ট ট্রেসের সময় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন রাতের অন্ধকারে যেভাবে নিশিরাতের সরকারের এমপিদের পাশ ফেলের সার্টিফিকেট দিয়েছিলো, একইভাবে নিশিরাতের সরকারের অনুসারীরা শতাব্দীকালের আতঙ্ক করোনা ভাইরাস টেস্ট না করেও ইস্যু করছিলো ভুয়া সার্টিফিকেট। ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকদের কারণে বিশ্বের দরবারের বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। দেশে দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে।’ করোনা-ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে আর কোনও কেলেঙ্কারি না ঘটে সে ব্যাপারে এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ বিশ্বাস করে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সঠিকভাবে প্রতিটি মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে।’’

রিজভী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে জনাব তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জাতীয় সংকটে রূপ নিচ্ছে। গত তিন বছরেও বাংলাদেশ একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি। নিশিরাতের সরকারের নতজানু কূটনীতির কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে একা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।’’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান বলেছেন, ‘প্রতিটি ঘটনাকেই সরকার হীন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিআর পিলখানার সুপরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকাময় স্মৃতি জনগণ এখনও ভুলে যায়নি, সেই নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ লাভবান হলেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ না ঘটলে, এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে কেউ ঠেলে পাঠানোর সাহস পেতো কিনা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকেও এভাবে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হতো কিনা এ নিয়ে জনমনে জিজ্ঞাসা রয়েছে।’’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমান বলেন, মেজর সিনহার নির্মম হত্যাকাণ্ডে আবারো প্রমাণিত হয়েছে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীর ভেতর একটি পেশাদার খুনি গ্রুপ তৈরি করেছে। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ‘পেশাদার খুনি গ্রুপ’টির কাছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতের মানুষ, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ কিংবা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা সবাই সমান। এই খুনি গ্রুপটি যাকেই খুন করুক তাকে ‘সরকারবিরোধী’ প্রমাণ করা গেলেই সাত খুন মাফ।’’

তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যত রাষ্ট্রনায়ক বলেছেন, ‘মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং টেকনাফে ওসি প্রদীপের সাম্রাজ্যে এটি তার ২০৫ নম্বর হত্যাকাণ্ড। শুধু টেকনাফ থানাতেই নয়, দেশের প্রতিটি থানাতেই এভাবে হত্যাকাণ্ড চলছে। ভিন্ন দল কিংবা মতের হাজার হাজার মানুষকে গুম কিংবা খুন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। জনগণ বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল যাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ, গণতন্ত্র নিরাপদ, নিরাপদ মানুষের স্বাধীনতা ও সম্মান। এই দলটিই পারে দেশ বাঁচাতে মানুষকে বাঁচাতে।