করোনা রুখতে উৎসবে মানুষকে আরও শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে মোদীর বার্তা

সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আসন্ন উৎসবের মরশুমে নিজের ও পরিবারের যত্ন নিতে পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার চলতি মাসের মন কি বাতে দেশবাসীকে আরও বেশি শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে আবেদন জানান তিনি।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনায় ৭৮ হাজার সংক্রমণ হয়েছে। যা এযাবৎকাল সর্বাধিক দৈনিক সংক্রমণ। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এমনটাই খবর। এদিন, রেডিওর মন কি বাতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “এখন উৎসবের মরসুম। পাশাপাশি মানুষদের শৃঙ্খলাপরায়ণ হওয়ার সময়। করোনা ভাইরাস প্রতিহত হবে যদি আপনি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলেন। দুই মিটারের দূরত্ব অবশ্যই মেনে চলুন।” এদিকে, সংক্রমণ এড়াতে একাধিক রাজ্য, তাদের স্থানীয় উৎসবের রাশ টেনেছে।

এবছর মহারাষ্ট্রের গণপতি পুজো সর্বজনীন কম, গৃহস্থালির পুজো হিসেবে বেশী উঠে এসেছিল। গণপতি বিসর্জনেও সরকারি নিয়ন্ত্রণ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল মহরমের শোভাযাত্রা। কেরলের ওনাম উৎসবকেও ছিমছাম হিসেবে তোলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে সে রাজ্যের পিনরাই বিজয়ন সরকার।

সাড়ে তিন মিলিয়ন ছাপিয়ে গেলো দেশের করোনা সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বাধিক ৭৮,৭৬১ জন সংক্রমিত হয়েছে। যা এযাবৎকাল রেকর্ড দৈনিক সংক্রমণ বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। এদিকে, সংক্রমণের বিচারে বিশ্বে তিন নম্বরে ভারত। প্রথম দুয়ে ইউএস ও ব্রাজিল। গত ২৬ দিন ধরে দৈনিক সর্বোচ্চ সংক্রমণের শীর্ষে ভারত। জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৯৫০ জন মৃত। এই সংখ্যা ধরে দেশে মৃত বেড়ে ৬৩,৪৯৮ জন। এই পরিবেশে আনলক ৪ দেশব্যাপী লাগু করতে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী চালু করা হবে মেট্রো পরিষেবা।

তবে এখনই চলবে না শহরতলির ট্রেন। পাশাপাশি কনটেইনমেন্ট জোনের বাইরে লকডাউনে নিতে হবে কেন্দ্রের অনুমতি। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাধিক একশো জনের জমায়েতে মিটিং-মিছিলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই জমায়েতে আয়োজিত করা যেতে পারে ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান। তবে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধই থাকবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়।

এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৫ মাসে মোট করোনা আক্রান্তের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং এক-চতুর্থাংশেরও কম রোগী সক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। “কেন্দ্রের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং লাগাতার করোনা পরীক্ষা পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার ফলেই করোনা থেকে পুনরুদ্ধারের হার বেড়েছে এবং প্রাণহানি কমানো গেছে”. টুইটে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। পাাশাপাশি বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, জিএসটির নীতি নির্ধারক বৈঠকের পর বলেন যে, করোনা ভাইরাস যেভাবে মহামারী রূপে দেখা দেওয়ার পিছনে আছে “ঈশ্বরের কীর্তিকলাপ” এবং এই অপ্রত্যাশিত ধাক্কার কারণে জিএসটি আদায়ের বিষয়টি প্রভাবিত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম নজরে আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। চিন থেকেই এই রোগ সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়ঙ্কর রোগটি সব মিলিয়ে ৮.৩১ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ২.৪৪ কোটিরও বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।