ইসরায়েল-আমিরাত প্রথমবারের মতো ফ্লাইট চালু সোমবার

রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের চুক্তিতে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হচ্ছে। সোমবার ইসরায়েল থেকে ইউএইর উদ্দেশে ই-১ এ-১-এর একটি বিমান যাত্রা শুরুর মাধ্যমে আকাশপথে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু হবে। শুক্রবার ইসরায়েলি বিমান সংস্থা ই-১ এ-১ এয়ারলাইনসের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ই-১ এ-১-এর ওই মুখপাত্র বলেছেন, বিমানটি তেলআবিব থেকে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে আবুধাবি থেকে তেলআবিবের উদ্দেশে বিমানের ফ্লাইটটি ফেরার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের (আইএআই) ওয়েবসাইটে এই বিমান চলাচলের সময়ের ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিমান সংস্থার ওই মুখপাত্র জানান, ৩১ আগস্ট সোমবার তেলআবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক রাজধানী আবুধাবির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, বাণিজ্যিক এ ফ্লাইটে দুই দেশের মাঝে চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা আমিরাতে পৌঁছবেন। ই-১ এ-১-এর ফ্লাইটে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও থাকবেন।

গত ১৩ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের এ দুই দেশের মাঝে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন।

ইউএইর সঙ্গে আকাশপথে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ নেই। তবে বিমান পরিবহনের সময় কমিয়ে আনতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করা হবে কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের আকাশপথে কোনো যোগাযোগ নেই।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ফ্লাইটের সঠিক রুট ও অবতরণের সময় নির্ধারণের ব্যাপারে এখনো কাজ চলছে।

এর আগে মে মাসে ইতিহাদ এয়ারলাইনসের একটি বিমান ফিলিস্তিনিদের কভিড-১৯-এর চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার উদ্দেশে আমিরাত থেকে তেলআবিবে যায়। এটিই ছিল আমিরাতের কোনো বিমান সংস্থার ইসরায়েলে প্রথম ফ্লাইট।

১৩ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চুক্তিতে পৌঁছেছে তারা।

পরে যৌথ এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল ও ইউএইর প্রতিনিধিরা শিগগিরই বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ ও অন্যান্য বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বৈঠক করবেন। এছাড়া শিগগিরই উভয় দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ও দূতাবাস স্থাপন করা হবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই, ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির খোল-নলচে পাল্টে যেতে পারে।