দেশে প্রধানমন্ত্রী বলে কেউ আছেন, সরকার বলে কিছু আছে?: প্রশ্ন দুদুর

মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯

ঢাকা : সারা দেশে ভয়াবহ বন্যা-নদীভাঙন, মহামারি ডেঙ্গু ও চামড়া শিল্প বিপর্যয়ের এই দুঃসময়ে ‘দেশে প্রধানমন্ত্রী বলে কেউ আছেন কিনা, সরকার বলে কিছু আছে কিনা’- এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আছে কি নেই, সরকার আছে কি নেই, এটা এখন একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার থাকলে তো চামড়া শিল্পের এমন বিপর্যয় হতো না। সরকার থাকলে তো ডেঙ্গুতে এত মানুষের মৃত্যু হতো না। সরকার থাকলে তো ব্যাংকের টাকা এভাবে চুরি হওয়ার কথা নয়। সরকার প্রধান থাকলে নিশ্চয়ই এগুলোর যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা করতো। অর্থাৎ দেশের সর্বক্ষেত্রে সমস্ত ব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়েছে।’

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি)’র আয়োজনে “আমার দেশ আমার শিল্প” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘১৯৭১ সালে যে দেশ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বীর জাতির দেশটা আজকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে এখন আর কিছু নেই। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষ এখন আস্থাহীন।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন বিলুপ্তির পথে। শুধু ঢাকাতে নয় সারা দেশে ডেঙ্গুতে মানুষ এখন এতটাই অসহায় কখন সে মারা যাবে সে নিজেও জানে না। সর্বশেষ যে ঘটনাটা আমরা প্রত্যক্ষ করলাম সেটা চামড়া শিল্পের মহাবিপর্যয়। এতটা বিপর্যয় বাংলাদেশ এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কারা? ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এদেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের এতিম অসহায় শিশুরা। এই চামড়ার টাকাগুলো পেয়ে থাকেন এতিম শিশুরা। এবার তারা সেই টাকা থেকেও বঞ্চিত হল। এই শিল্প বিপর্যয়ের কারণে পার্শ্ববর্তী দেশ রমরমা ব্যবসা করেছে। এসব খবর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।’

দুদু আরও বলেন, ‘আমরা কোথায় বাস করছি। এই অনুষ্ঠানে আমাদের সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পুরোটাই ব্যাখ্যা করে বলেছেন শিল্পমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য। সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের এই ব্যর্থতা আজ বিএনপিকে কাঁধে নিতে হচ্ছে।’

সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের কার্যকর আন্দোলন গড়ে না তোলার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আমাদেরও ব্যর্থতা আছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার ব্যর্থতা। দেশবাসীকে সাথে নিয়ে যে আন্দোলনটা আমাদের গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল সেটি হয়তো আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। তবে এ কথা বলতে পারি- এদেশে কখনও কোনও জালিম সরকার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এই সরকারও হবে না।’

বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের কথা উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন-সংগ্রামের একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি আজ একটি মিথ্যা মামলায় প্রায় পৌনে দুই বছর কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁকে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে আটক রাখা হয়েছে। আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছিল, তারপরও তিনি দেশে থাকতে পারেননি।’

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুনয় বিনয় করে বর্তমানে দেশের যে সংকট চলছে এই সংকট থেকে কোনোভাবেই মুক্তি পাওয়া যাবে না। কার্যকর আন্দোলন আমাদেরকে অতীতের মতো গড়ে তুলতে হবে। ছাত্র শ্রমিক মেহনতি মানুষদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই জাতি মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ী জাতি, এই জাতি মওলানা ভাসানীর জাতি, শহীদ জিয়াউর রহমানের জাতি, এই জাতি যেদিন জেগে ওঠে রাজপথে নেমে আসবে মুক্তি সেদিনই আসবেই।’

আয়োজক সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।