হয় মুক্তি, না হয় মৃত্যু: প্রতিজ্ঞা কর্নেল অলির

মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯

ঢাকা : ‘দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং মুক্তির পথ বের করতে হবে। আমাদের এই মুক্তি মঞ্চের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের জনগণকে মুক্তি দেয়া।’

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশের সার্বিক বিরাজমান পরিস্থিতি-উত্তরনের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এ কথা বলেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা আটটি দলের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কর্নেল অলি বলেন, ‘জনগণকে বাঁচানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনারা যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, আমি মঞ্চে বলেছিলাম হয় মুক্তি হবে না হয় মৃত্যু হবে, সেই প্রতিজ্ঞা করে আপনারা এখান থেকে যাবেন, দেশকে বাঁচান দেশের জনগণকে বাঁচান।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয় নাই। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ও নির্বাচনকালীন সময়ে জনগণ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হয়েছে। কারণ দেশ স্বাধীন হয়েছে জনগণ স্বাধীন হয় নাই।

তাই আমাদের সকলকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত, মাদক মুক্ত, দলীয়করণ মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। আমরা একে অপরকে দোষারোপ করে কখনো দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারবো না। সবাইকে সত্য উপলব্ধি করতে হবে, ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।’

জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা ডেঙ্গু মহামারি, নাজুক অর্থনৈতিক- শেয়ারবাজার ও ব্যাংকের টাকা লুণ্ঠন এবং বিদেশে টাকা পাচার,ভয়াবহ বন্যা এবং অপর্যাপ্ত ত্রাণ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংকট, গজব ও গুজব ইত্যাদি বিষয়ে আলোকপাত করেন।’

দেশি ব্যাংকগুলোকে অর্থনীতি লন্ডনের অভিযোগ করে কর্নেল অলি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ধেক টাকা লুণ্ঠনের মাধ্যমে, শেয়ার বাজারের মাধ্যমে, আচারের মাধ্যমেই, সুইস ব্যাংকে জমার মাধ্যমে পাচার হয়ে গেছে। সর্বোপরি ব্যাংকের অবস্থা অত্যন্ত করুণ।’

বৈঠকে বক্তাদের বক্তব্যের আলোচিত বিষয় গুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ব্যাংক কাছে টাকা নাই। হাসপাতালে ওষধ নাই, মশা মারার ওষুধ নাই, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নাই। আদালতে আছে বিচার নাই, কথা বলার অধিকার নাই। ভয়াবহ বন্যা আক্রান্ত জন্য রিলিফ নাই, ঘরে ভাত নাই,পকেটের টাকা নাই। যোগ্য ব্যক্তিদের কদর নেই, সমাজের মনুষ্যত্ব নেই। সংসদ সদস্য আছে মনোনীত নন, পার্লামেন্ট আছে বিরোধী দল নাই। লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিতে ভবন নির্মিত হয় কারো মাথাব্যাথা নেই। যন্ত্রপাতি ও মালামাল বুঝে না নিয়ে বিল পরিশোধ হয় দুদকের ব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র স্বাধীন, তবে জনগণ স্বাধীন নয়। শিক্ষিত শিক্ষিত যুবকরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে চাকরির কোন সংস্থান নাই। নালা নর্দমা পরিস্কার নাই, নদী খাল আছে সংস্কার নাই। গালাগালি ছাড়া বক্তব্য নাই, গঠনমূলক আলোচনা ও সমাবেশ করার পরিবেশ নাই। রাষ্ট্র আছে গণতন্ত্র নাই, মানুষের মনে শান্তি নাই চোখে ঘুম নাই জীবনের নিরাপত্তা নাই, সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের উপায় কি?’

তিনি বলেন, ‘দেশের এই করুন পরিস্থিতিতে বিজ্ঞজনদের মতামত নেয়া একান্তই জরুরি ছিল। বিজ্ঞজনদের মতামত আমরা গ্রহণ করেছি, আগামীতে আমরা ঘরোয়াভাবে বসবো।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এমডিপির মহাসচিব ডক্টর রেদোয়ান আহমেদ, নিউ ন্যাশন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, কল্যাণ পার্টির সহ-সভাপতি জাহেদ আবেদিন, অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, এলডিপির সহ-সভাপতি নেয়ামুল বশির।