কে বসছে দিল্লির মসনদে?

রবিবার, মে ১২, ২০১৯

কলকাতা: ভারতে সাত দফা ভোটপর্ব অন্তিম পর্যায়ে। ২৩ মে বহু ইপ্সিত ভোটের ফলাফল ঘোষিত হবে। এর মানে, আর দু-সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে দিল্লির মসনদে কে বসছে। বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ ক্ষমতায় এলে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে গেরুয়া বাহিনীতে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু তা না হলে কে হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী?

আলোচনার কেন্দ্রে অবশ্যই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নাম রয়েছে। কিন্তু বিরোধী শিবিরের দৌড়ে মায়াবতী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কয়েকটি নামও ঘোরাফেরা করছে। ভারতে প্রথম একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা নিয়ে এই বঙ্গে চর্চার অন্ত নেই। আর এই প্রশ্নেই আপাতত ফের দ্বিধাবিভক্ত সিপিএম।

বিজেপি নিশ্চিত, তারাই ফের সরকার গঠন করবে. কিন্তু ভোট যত এগোচ্ছে, রাহুল থেকে মমতার হাসি তত চওড়া হচ্ছে। চন্দ্রবাবু নাইডু, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, ফারুক আবদুল্লা, কেজরিওয়ালরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গড়বে বিরোধীরাই। কিন্তু কোন বিরোধী? বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস একক দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের আসন সংখ্যা ১০০ ছাড়াবে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার ২৭২টি আসন পেতে হলে আঞ্চলিক দলগুলোই প্রধান শক্তি হয়ে উঠবে। এমন পরিস্থিতি হলে রাহুলই কেন প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে। আর এখানেই ফেডারেল বা তৃতীয় ফ্রন্টের নেতা হিসেবে উঠে আসছে মমতা, মায়াবতীর নাম। যেমনটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে।

বঙ্গ-রাজনীতিতে অবশ্য একটা বাড়তি প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে। তা হল, মমতা প্রধানমন্ত্রী হলে সিপিএম কী করবে? গোটা দেশে এখন একমাত্র কেরালায় টিমটিম করে জ্বলছে সিপিএম। এই নির্বাচনে দেশে বামেদের আসন সংখ্যা দুই অঙ্ক ছাড়াবে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেসব ভুলে ভোট-পরবর্তী অঙ্ক নিয়ে সিপিএমের প্রকাশ কারাত ও সীতারাম ইয়েচুরি শিবির আস্তিন গোটাতে শুরু করেছে।

সিপিএম সূত্রের খবর, কংগ্রেস নয়, আঞ্চলিক দলগুলোর নেতৃত্বে একটি সরকার হলে ভালো হবে বলে মনে করে কারাত শিবির। দলের ইয়েচুরি-সহ বঙ্গ ব্রিগেড অবশ্য কংগ্রেসের নেতৃত্বেই সরকার গঠনের পক্ষে ব্যাট ধরেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যদি হন মমতা? কারাত শিবির সেই সরকারকে সমর্থন করতে রাজি হলেও ইয়েচুরি গোষ্ঠী কোনোমতেই তা মানবে না।
সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটে বাম তথা সিপিএম। ফলাফল ঘোষণার পর ৫৪৩ আসনের লোকসভায় তাদের দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হলেও দলের অন্দরে লড়াই জারি আছে। ২৫ বছর আগে জ্যোতি বসুকে প্রধানমন্ত্রী হতে দেয়নি যে দল, তারা এবার আরো এক বাঙালির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ এলে শেষ পর্যন্ত কী করবে– সেটাই দেখার।