আইন-আদালতের কারণে নয়, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে : গয়েশ্বর

সোমবার, মে ৬, ২০১৯

ঢাকা : আইন, আদালতের কারণে নয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সোমবার(৬ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও তারেক রহমানের সকল রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নাগরিক প্রতিবাদ সভাটির আয়োজন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোনালাপের কথিত অডিওতে শোনা যায়, ‘তারেককে বলো বেশি বাড়াবাড়ি না করতে। তাহলে কিন্তু তার মা জেল থেকে বের হতে পারবে না। লন্ডনে আমাদের এখন কোনো হোটেল ভাড়া দেয় না।

প্লিজ, হোটেলের আশপাশে ঝামেলা করো না।’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই কথার মানে আইনের কারণে নয়, আদালতের কারণে নয়, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই বেগম জিয়া কারাগারে আছেন এবং সারা জীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছেন, সব কথাই বলা দরকার কোনো কথায় বলা যাবে না। এ অবস্থার মধ্যে আমরা এ দেশে বসবাস করছি। এখন আমি যদি বলি আদালতের হাত-পা বাঁধা, তাহলে বলা হবে আপনি আদালত অবমাননা করেছেন। আমি বিচার বিভাগের উপর, বিচারপতিদের সবিনয় নিবেদন করবো, একজন কারাবন্দিকে আজীবন কারাগারে থাকতে হবে এ হুমকি যদি প্রধানমন্ত্রী দেয়

তবে আপনারা কি জিজ্ঞেস করতে পারেন, তিনি কে? আপনি কে এ সিদ্ধান্ত দেয়ার? পারবেন না?

গয়েশ্বর বলেন, ‘একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে হোটেল বুকিং দিতে পারে না, এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে গাড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় এটা স্বাভাবিক বিষয় না। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বোনের বাসা আছে। উনি হোটেল বুকিং না পেলে সেখানে উঠতে পারতেন।’

দলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সমালোচনা দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস কমায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ব্লেইম গেম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি কি পারলাম সেটা ভেবে দেখতে হবে। আরেকজনকে কেন দোষারোপ করব? আমরা সবাইতো একই দোষে দুষি। একজন আরেকজনকে দোষারোপ করলে প্রতিপক্ষ সুযোগ পায়। আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমাদের সংগ্রাম ঐক্যের জন্য, ঐক্য হল লক্ষ্যার্জনের।’

এসময় গয়েশ্বর বলেন, ‘আসুন আমরা অন্যের সমালোচনা করা বাদ দিয়ে আত্মসমালোচনা করি এবং নিজেকে সংশোধনের মাধ্যমে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলবো। এতে দল শক্তিশালী হবে, দলের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।’

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘যেখানে ব্যর্থতা সেখানেই সফলতার যাত্রা শুরু, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। অর্থাৎ যেখানে আমাদের পারা দরকার। সেখানে আমাদের পারার জন্য চেষ্টা করা দরকার। চেষ্টা করলে কখনো সফল কখনো বিফল হতে পারে। আর বিফল হওয়ার মানে এই না আমি সেখানে ইশতফা দেব ‘

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে সংসদে যাওয়ার। এখন দেখার ব্যাপার যে তারা কতটা ভূমিকা রাখতে পারে। এখন এসব নিয়ে কথা বলার নয়। দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন থাকে। আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরপর সময়ই বলে দিব সিদ্ধান্তটা সঠিক, নাকি বেঠিক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে আশা করেছিলাম সংসদে যাওয়াটা, পরে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার কথার পর তা আর মনে হচ্ছে না। তবু আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবো।’

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ, ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, তাঁতী দলের যুগ্ম আহবায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জান মনির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।