‘৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন’

শনিবার, মে ৪, ২০১৯

ঢাকা : ৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই আর ৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর গবেষণায় এতথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘আইএলও কনভেনশন-১ এর শতবর্ষ পূর্তি এবং বাংলাদেশে কর্মঘণ্টার বর্তমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

নিরাপত্তাকর্মী, পরিবহন খাত, হোটেল, রেস্তোরাঁ, রি-রোলিং মিল ও হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫টি প্রচলিত বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন বিলসের তথ্য বিভাগের উপপরিচালক ইউসুফ আল মামুন।

গবেষণায় বলা হয়, প্রায় ৫০ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ২০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক কোনো কর্মবিরতি ছাড়াই কাজ করেন। ৯০ শতাংশের বেশি পরিবহন শ্রমিকের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। ৯৮ শতাংশ শ্রমিক সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করেন। দূরপাল্লার চালকরা যেন ৫ ঘণ্টার বেশি একটানা যেন গাড়ি না চালান, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি বলেও উঠে এসেছে বিলসের গবেষণায়।

এছাড়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিরাপত্তাকর্মী দৈনিক ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ৫০ শতাংশ কর্মী কোনও কর্মবিরতি ছাড়া কাজ করেন। প্রায় ৬৬ শতাংশ নিরাপত্তাকর্মীর সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত নেই। সরকারি ছুটির দিনে ৮৬ শতাংশ কর্মী কাজ করেন।

হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাজ করা প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন বলে উঠে এসেছে বিলসের প্রতিবেদনে। প্রায় ১৪ শতাংশ শ্রমিক ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। ২৬ শতাংশ শ্রমিক কোনও কর্মবিরতি ছাড়া কাজ করেন। ৮০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের কোনও সাপ্তাহিক ছুটি নেই।

রি-রোলিং খাতে ৯২ শতাংশ শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। প্রায় ১৬ শতাংশ দৈনিক ১৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করেন। ৯৬ শতাংশ শ্রমিককে দৈনিক গড়ে দুই থেকে পাঁচ শিফট পর্যন্ত কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়াও ৪৪ শতাংশ শ্রমিক দৈনিক গড়ে ২টি কারখানায় কাজ করে। রি-রোলিং খাতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শ্রমিককে দৈনিক গড়ে তিনটি কারখানায় কাজ করতে দেখা গেছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিলসের মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৯৭২ সালে বাংলাদেশ আইএলওর সদস্য হলেও এত বছরেও আইএলও কনভেনশন বাস্তবায়ন করছে না। শ্রম আইন থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদফতরের মহাপরিচালক শিবনাথ রায় বলেন, ‘দেশে ৫ কোটি ৮৭ লাখ শ্রমিকের জন্য শ্রম আইনের সবগুলো ধারা আমরা পরিপূর্ণ করতে পারিনি। শ্রমিকদের বেশি কাজ করালে তার জন্য ন্যায্য মজুরি পরিশোধ করতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজের অধ্যাপক জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একেএম নাসিম, বিলসের ভাইস-চেয়ারম্যান শুক্কুর মাহমুদ, ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন প্রমুখ।