৫ ব্যাংকের ঋণ খেলাপি ৫৬% এর উপরে

বৃহস্পতিবার, মে ২, ২০১৯

ঢাকা : ব্যাংক খাতের এই দুর্দিনে সবচেয়ে খারাপ সময় অতিক্রম করছে পাঁচ ব্যাংক। যদি কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট বকেয়া বা স্থিতির ৫৬ শতাংশের উপরে হয় তাহলে সেই ব্যাংকের অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে বিতরণকৃত মোট ঋণ স্থিতির সিংহভাগই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৫ টি। এর মধ্যে দুটি সরকারি, দুটি বেসরকারি ও একটি বিদেশী ব্যাংক।

প্রতিটি ব্যাংকই চায় ব্যবসা মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে। কিন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দিতে না পারলে ব্যাংক খাতসহ পুরো অর্থনীতিতেই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের করণেই বড় হচ্ছে ঋণ খেলাপির তালিকা। দিন দিন আরও নাজুক হচ্ছে ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি।

৫৬ শতাংশের উপরে খেলাপি বিশিষ্ট ব্যাংকগুলো হলো বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংক লি. (বিডিবিএল), বেসিক ব্যাংক, আইসিবি ইসলামি ব্যাংক, দি ফারমার্স ব্যাংক লি. (পদ্মা) ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) অযোগ্য ব্যক্তি ও ভুঁইফোড় কিছু প্রতিষ্ঠানকে জামানতবিহীন এবং অস্তিত্বহীন জামানত রেখে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার অভিযোগ উঠে। যা যাচাই করতে তদন্তে করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমানে বিডিবিএল এর মোট খেলাপির পরিমাণ ৮৮৭কোটি টাকা। যা মোট স্থিতির ৫৬.৫৪ শতাংশ।

২০১২ সালের ৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০১৩ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে ব্যাংকের শান্তিনগর, গুলশান ও দিলকুশা শাখা থেকেই তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই গুরুতর অনিয়মের ঋণ। তখন থেকেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে বেসিক। এই মুহুর্তে বেসিক ব্যাংকের মোট খেলাপির পরিমাণ ৮৬৩২ কোটি টাকা। যা ব্যাংকটির মোট স্থিতির ৫৭.৫৫ শতাংশ।

২০১৩ সালের ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত ফারমার্স ব্যাংক লি. মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে। উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পারার অভিযোগ উঠে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করে। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট ঋণ খেলাপি ৩১৮৪ কোটি টাকা। যা মোট স্থিতির ৫৯.৫৫ শতাংশ। এছাড়াও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি রয়েছে ৮৩.৮৮ শতাংশ। এই মুহুর্তে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মোট খেলাপি ৭০৬ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঋণ খেলাপির পরিমাণ ১৩৮৫ কোটি টাকা। যা মোট বকেয়া বা স্থিতির ৯৭ শতাংশ।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঋণ দেওয়ার সময় ঠিকভাবে মান যাচায় করা হচ্ছেনা। অথবা চাপে পড়ে ঋণ দেওয়ার কারণে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে চাপ ও দুর্নিতীকে উপেক্ষা করার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। যতদিন ব্যাংকিং খাতে সুশাসন না আসবে ততদিন এরকম হতেই থাকবে। তা বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ঋণ দেওয়া ও আদায়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কুঋণ বৃদ্ধিতে সহযোগী ভুমিকা পালন করে। এটা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য বেশ উদ্বেগজনক। এ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস, ব্যাংকের সুশাসন ফিরিয়ে আনা ও আইনী জটিলতা নিরসন করা উচিত।