শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আহ্বান ফখরুলের

বুধবার, মে ১, ২০১৯

ঢাকা : আজকে শ্রমিকরা তাদের অধিকার হারিয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ সরকার মানুষের পকেট কেটে নিয়ে দুর্নীতি করছে। তারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলে আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (০১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক র‍্যালি উদ্বোধনের সময় তিনি দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধে সবাইকে আহ্বান জানান।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, এই মে দিবস অধিকার আদায়ের দিন। এই দিবসকে সামনে রেখে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য। সরকার একদিকে চুরি করে আমাদের ভোটের অধিকার লুট করেছে। অন্যদিকে, আমাদের ভাতের অধিকার লুট করছে। আজকে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিক জনতার ঐক্য খুবই জরুরি। অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন সংগ্রামে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আজকে একটি মহান দিন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের বাংলাদেশে শ্রমিক ভাইদের মর্যাদা নেই। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নেই, শ্রমিক ভাইয়েরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। দ্রব্যমূল্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাসা ভাড়া এমনকি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সরকার তাদের দুর্নীতিকে বৈধ করার জন্য এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা একদিকে শেয়ার মার্কেট লুট করছে, ব্যাংক লুট করছে, অন্যদিকে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা লুট করছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে তারা দুর্নীতির পদ্মাসেতু নির্মাণ করে, তারা কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করে, যেগুলো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। তাই আজ আপনারা যারা এই মে দিবস পালন করছেন, আপনাদের সেই অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আজকে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ও রেমিটেন্সের আয় দিয়ে বাংলাদেশ চলছে। অথচ তারা যে টাকাগুলো আয় করছে, সেই টাকা সরকার দুর্নীতি করে নষ্ট করছে।

পরে মির্জা ফখরুল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে শ্রমিকদের এই র‍্যালির উদ্বোধন করেন।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম প্রমুখ।

পরে একটি র‍্যালি নয়াপল্টন থেকে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে আবার নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়। এসময় শ্রমিকরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। তাদের হাতে বিভিন্ন রকমের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড দেখা যায়।