উত্তেজনার মধ্যে চীনে কানাডার নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

বুধবার, মে ১, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাদক চোরাচালানের অভিযোগে কানাডার আরওে এক নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীনের একটি আদালত। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত মঙ্গলবার এক রায়ে ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কানাডার নাগরিক ফ্যান ওয়েইসহ আরও ১০ জনকে আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ১০ জনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর একজন নাগরিক রয়েছেন।

এই সিন্ডিকেট ২০১২ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত তাইশান শহরে মাদক বিক্রি করেছে। তারা অন্যান্য মাদকের সঙ্গে ৬৩ কেজি মেটাফেটামিন উৎপাদন ও বিক্রি করেছে। এদের মধ্যে ফ্যান ও চীনা এক নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার জন্য ১০ দিন সময় পাবেন।

এদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড চীনা আদালতের এ রায়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। তিনি বিশ্বের যেকোনো দেশে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিরোধিতা করেন। চীন সরকার ফ্যানের অপরাধকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে বলে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে কানাডার সঙ্গে চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর এ নিয়ে চীনে কানাডার দ্বিতীয় নাগরিককে মাদক চোরাচালানোর দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো। গত জানুয়ারি মাসে কানাডার নাগরিক রবার্ট লয়েড শেলেনবার্গকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মার্কিন অনুরোধে সাড়া দিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়াংঝুকে গ্রেপ্তার করে কানাডা। মেং ওয়াংঝু হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট রেন ঝেংফেইয়ের মেয়ে।

ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করেছেন ওয়াংঝু। বেইজিং অটোয়াকে সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ওয়াংঝুকে আমেরিকার হাতে তুলে দিলে কানাডাকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।