৪৬ দিনের ছুটিতে ববি উপাচার্য : ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উল্লাস

সোমবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৯

বরিশাল : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম ইমামুল হকের ৪৬ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। তার এ ছুটি মঞ্জুরের খবরে উল্লাসে মেতে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) বেলা সোয়া ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিশ্চিত হন। সাথে সাথেই তারা আন্দোলনস্থল অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নীচতলায় উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এদিকে সোমবার (২৯ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় (অধিশাখা-১৮) এর উপ-সচিব হাবিবুর রহমান সাক্ষরিত ওই অফিস আদেশের বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এস. এম ইমামুল হকের ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ছেচল্লিশ দিনের জন্য নিম্নবর্ণিত শর্তে ছুটি মঞ্জুর করেছেন। শর্তানুযায় উপাচার্যর অনুপস্থিতিতে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত উপাচার্যর রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো বলে অফিস আদেশের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আদেশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিবসহ ১১ জনকে প্রদান করা হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান মুঠোফোনে জানান, উপাচার্য ২ দফায় ছুটির দরখাস্ত করেছিলেন। তা মঞ্জুরের বিষয়টি আজ নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

এখন আশাকরি শিক্ষার্থীরা দ্রুত ক্লাশে ফিরে যাবে এবং পড়াশুনায় নিজেদের মনোনিবেশ করবে এবং এলক্ষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতা লোকমান হোসেন জানান, বিগত দিনের ন্যায় আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) আন্দোলনের ৩৫ তম দিন সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিসির অপসারন নয়তো পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে ছুটিতে পাঠানোর দাবীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে।

বেলা ২ টার দিকে ভিসিকে ৪৬ দিনের ছুটিতে পাঠানোর খবর পাওয়ার পরই গোটা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা উল্লাসে ফেটে পরেন। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু জাফর মিয়া বলেন, ভিসির অপসারণ নয়তো পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে ছুটিতে পাঠানোর দাবীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করেছে, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে অতিদ্রুত ক্লাশে ফিরে যাবো।

উল্লেখ্য ২৬ মার্চ শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় প্রতিবাদ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এসএম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করেন।

এরই প্রতিবাদে ২৬ মার্চ থেকেই ভিসির পদত্যাগ অথবা পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের ছুটির দাবীতে জোরদার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, ডিসি অফিস ঘেরাও, মানবববন্ধন, অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি, বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ, নিজেদের শরীরের রক্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লিখে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি, উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ ও মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল ভিসি ব্যক্তিগত প্রয়োজন দেখিতে কর্তৃপক্ষের নিকট ১১ এপ্রিল থেকে ১৫ দিনের ছুটিতে যাওয়ার একটি দরখাস্ত দেন।

যা শিক্ষার্থীরা মেনে না নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকলে আজ ৪৬ দিনের ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি চূরান্ত হয়। উল্লেখ্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম ইমামুল হকের মেয়াদকাল ২৭ মে পর্যন্ত রয়েছে।