‘আমি ওদের পিছনে লাগব, সবার মুখোশ খুলে দেব’

শনিবার, মার্চ ২৩, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক : কঙ্গনা রানাওয়াত। আজ তার জন্মদিন। বলিউডের ‘ক্যুইন’ এবার পা রাখলেন ৩২-এর কোঠায়। খুব কষ্ট করে সাধারণ পরিবার থেকে পা রাখা গ্ল্যামার দুনিয়ায়। ইন্ডাস্ট্রিতে একঘরে, কোণঠাসা হয়েছেন বারবার। কিন্তু প্রতিভা আর দক্ষতা রোধ করতে পারেনি তাঁর পথ।

ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, স্পষ্টবাদী হওয়ায় পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে। তবু বলিপাড়ার বড় শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে আরও শক্ত করেছেন নিজের পায়ের তলার মাটি। মাত্র ৩২ বছরেই ঝুলিতে পুরে নিয়েছেন তিন-তিনটি জাতীয় পুরষ্কার। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এই নায়িকার কেরিয়ারগ্রাফ আজ যথেষ্ট ঈর্ষনীয়।

কখনও হৃত্বিক, কখনও করণ জোহর, কখনও খান-রাজত্ব, কখনও নেপোটিজম। একের পর এক লাগামছাড়া সাহসী মন্তব্য শোনা গিয়েছে কঙ্গনার কথায়। সেই অর্থে বি-টাউনে কোনও গ্র্যান্ডফাদার না থাকার পরেও মেরুদণ্ডটা শক্ত রেখেছেন কঙ্গনা।

আজ তার জন্মদিনে বিতর্কিত সেই কথার ঝাঁঝেই আসল মানুষকে চিনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

বলিউডের খান-সাম্রাজ্য: ‘‘কেন আমি খানদের সঙ্গে কাজ করতে যাব ? এক সময় আমিও একটা প্রচলিত রাস্তা ধরে হাঁটতে চাইতাম। যেখানে আমি বড় নায়কদের সঙ্গে কাজ করব, আর আমিও খুব বড় একজন হিরোইন হয়ে যাব। এখন আমি খানদের থেকে একসঙ্গে কাজ করার অনেক অফার পাই। কিন্তু যখন আমি কাজ করতে চাইতাম, তখন কেউ আমার সঙ্গে কোনও কাজ করতে উৎসাহী ছিল না। এখন সেটে আমিই আমার হিরো। কেন অন্য হিরোদের সঙ্গে কাজ করতে যাব?’’

ওম্যান কার্ড: ‘‘আমি সমস্ত কার্ড দিয়েই খেলি। যখন কাজের জায়গা হয়, তখন ঠোঁটকাটা প্রতিযোগিতায় লড়াই করার কার্ড ব্যবহার করি। যখন পরিবার আর প্রিয় মানুষদের সঙ্গে থাকি, তখন লভ কার্ড ব্যবহার করি। যখন এই পৃথিবীর সঙ্গে লড়াই করি, তখন আত্মসম্মানের কার্ডটা ব্যবহার করি। আর যখন বাসের সিটের প্রশ্ন আসে, তখন ওম্যান কার্ড খেলি। আসলে মনে রাখতে হবে, আমরা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি না। আমরা কিছু মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়ছি। আমি করণ জোহরের বিরুদ্ধে লড়ছি না। লড়ছি পুরুষালি উগ্রতার বিরুদ্ধে।

নারীর সফলতা: ‘‘যখন পুরুষরা মেয়েদের সফল হতে দেখেন, প্রথমেই সে একটা ডাইনিতে পরিণত হয়। যদি সে মারাত্মক সফল হয়, তাহলে তাকে মানসিক রোগী বলা হয়। যদি মেয়েটি সেক্সুয়ালি অ্যাকটিভ হয়, তাহলে সে হয় বেশ্যা। আমি পর্দাতেই বেশ্যার চরিত্রে অভিনয় করেছি। আর সেটা করতে গিয়ে যখন আমি সেই সমস্ত মানুষগুলোর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এসেছি, তখন থেকেই পুরুষদের প্রতি আমার সহানুভূতি জেগেছে। তাই আমি আর কিছুতে ভয় পাই না।’’

বড় হাউস তার ছবির প্রচার করে না: ‘‘এটা আমার জন্য ভালই হয়েছে। ৩-৪টে জাতীয় পুরষ্কার পেয়ে গিয়েছি আমি। এই বছর বয়সে আমি একজন পরিচালকও। তাই নিজেই নিজের প্রচার করব, এটাই সব থেকে বড় কথা। আগে আমি ওদের ফোন করতাম। কিন্তু এখন আমি ওদের পিছনে লাগব। সবার মুখোশ খুলে দেব আমি। আমার পিছনে দলবাজি করার জন্য সমস্যায় পড়তে হবে সবাইকে।’’

করণ জোহর ও নেপোটিজম: ‘‘আমার বায়োপিকে, যদি কখনও সেটা তৈরি হয়, আমি সেখানে এই স্টিরিওস্টাইপিক বলিউডেটাকে তুলে আনব। দেখাব একজন ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে এলে কী করে তারা তাকে দূরে ফেলে দেয়। কী করে নেপোটিজমের ঝান্ডা উড়িয়ে দেয়। আমি তোমার জন্যই আমার জীবনের গতি পেয়েছি। যদি আমাকে বাদ দিয়ে তুমি আমার মজা না ওড়াতে, তাহলে আমি এখানে পৌঁছতাম না করণ। তুমি আমার ইংরাজি নিয়েও মজা উড়িয়েছিলে।’’