বাঘাইছড়িতে নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পাবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা: সিইসি

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১, ২০১৯

ঢাকা: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ভোটের দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে নিহতদের পরিবারের প্রত্যেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘কমিশন আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। জীবনের মূল্য আর্থিক ক্ষতিপূরণে হয় না। কমিশনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে এবং আহতদের অবস্থা অনুযায়ী আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। কমিশন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।’

সিইসি জানান, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে ফলাফলসহ ফেরার পথে পাহাড়ের উপর থেকে দুষ্কৃতিকারীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ৭ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে হামলা কবলিতদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়েছে। সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় দুটি হেলিকপ্টারযোগে আহতদর রাতেই চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে কয়েকজনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ৭ জন ঢাকার সামরিক হাসপাতালে চিকিৎধীন আছেন।

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় ভোটের সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের সময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো থাকে না। সারা দেশে উপজেলা ভোটে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেয়া হয়। যাতায়াত ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পার্বত্য এলাকায় ভোটে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়।’

সিইসি আরও বলেন, ‘হামলার ঘটনায় ইতোমধ্যে সাড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। কমিশন সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। ঘটনার দিন বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। সামরিক ও বিমান বাহিনীর সকলকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ঘটনার সময়ে বিজিবি সশস্ত্রভাবে দায়িত্বে ছিল। এগুলো চোরাগোপ্তা হামলা, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক হিসাবের মধ্যে থাকে না। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সারাদিন ভোটে কোনও বিশৃঙ্খলা করতে পারেনি। সার্বক্ষণিক টহলের কারণে তারা নির্বাচন ব্যাহত করতে পারেনি। রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি অঞ্চলে কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে তার নির্ণয় আগে থেকে করা সম্ভব হয় না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় বিজিবি ছিল, পেছনের গাড়িতে সশস্ত্র পুলিশ ছিল। সেখানে তারা আক্রমণ করে। বিজিবির গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ছিল, ফলে একটু দূরে ছিল। পাহাড়ি অঞ্চলের সরু রাস্তায় ঘুরে আসাও সম্ভব নয়। তারপরেও এগুলো অতর্কিত হামলা। পরিকল্পিত এসব হামলা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ফলে এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে কাউন্টার হামলা করা সম্ভব না। তবে পরে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল না।’

কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকা একটি ব্যাপক এরিয়া। কোথায় কখন কী হবে তা হিসাব করা যায় না। বিজিবিই নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ছিল। সবসময়ই নির্বাচনের সময় গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোট বর্জন করতেই পারে। কিন্তু বর্জনের পর এমন অবস্থা সৃষ্টি হবে, তা ধারণা করা যায় না। তবে এই দায় কার সেটি বলা যায় না। ইতোপূর্বে কোন্দলের কারণে অনেক খুনোখুনি হয়েছে, অনেকের জীবন গেছে। একটা সময় দিনে দুপুরে মানুষ হত্যা করা হতো। এটি তেমনই একটি অঞ্চল।’