‘ঐ নায়িকাগুলো তো আসলে পতিতা’

বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রে ক্লন্তি কালে আজ দিশেহারা চলচ্চিত্রের অনেক নামিদামী নির্মাতা, নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজক। চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরাতে তারা দিনের পর দিন ঘাম জড়াচ্ছেন। আর ঠিক তখনই চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে কিছু অসাধু নির্মাতা ও প্রযোজক ছবির ঘোষণা দিয়েই নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

নির্মাতা ও প্রযোজক নামধারী কিছু অসাধু লোক সিনেমা নির্মাণের কথা বলে করছে ভুয়া মহরত। অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে চলচ্চিত্রের নামে ভুয়া মহরত অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সেসব অনুষ্ঠানে যাদের নায়ক-নায়িকা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে তারাও পরিচিত কেউ নন। যেহেতু ছবিটি আর তৈরিই হয় না তাই নামসর্বস্ব নায়ক-নায়িকারাও আর দর্শকের সামনে আসতে পারেন না। শুধু মহতেই থেকে যায় ছবি।

অভিযোগ রয়েছে রাজধানীর মগবাজারে কিছু রেকর্ডিং স্টুডিওতে অপেশাদার লোকজন প্রতারণার জন্য ছবির মহরত করছে। আর এর সঙ্গে এফডিসির কয়েকজন অসাধু লোকও জড়িত বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সম্প্রতি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ফেসবুকে এত এত নায়ক-নায়িকা দেখি, অথচ এদের কাউকে চিনি না। দুদির পরপর দেখি অডিও স্টুডিওগুলোতে ছবির মহরত হচ্ছে, দেখে নিজেরই হাসি পায়। কথায় আছে, আগে দর্শনদারি, পরে গুণবিচারি। যেসব নায়ক-নায়িকাকে দেখি, তারা তো নিজের দিকেই তাকিয়ে দেখে না। একটা কেক কাটে, পেছনে ব্যানারে লেখা থাকে মহরত। তিন-চারটা নায়িকা নিয়ে মহরত হয়ে যায়। এসব আসলে এক ধরনের প্রতারণা।’

আলু-পেঁয়াজের ব্যবসায়ী দুই-তিন লাখ টাকা দিয়ে নায়ক হয়ে যায় উল্লেখ করে জায়েদ খান বলেন, ‘নামেমাত্র প্রযোজকগুলো অসৎ উদ্দেশ্যে মেয়েগুলোকে ব্যবহার করছে মহরতের নামে। আর এই নায়িকাগুলো তো আসলে পতিতা। একজন ব্যবসায়ীকে ফুঁসলিয়ে চলচ্চিত্রে নেমে নিজেকে নায়িকা হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের ছবি কিন্তু আলোর মুখ দেখে না।’

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জায়েদ খান বলেন, ‘আমি মনে করি, এইসব ছবির বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। এগুলো অপরাধ, যা প্রকাশ্যে করা হচ্ছে। এসব নায়ক-নায়িকার জন্য আমাদের শিল্পীদের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে, চলচ্চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’