তলে তলে মোদির মাথায় হাত বুলাচ্ছেন ইমরান

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীরে যুদ্ধ ঠেকাতে তলে তলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মাথায় হাত বুলাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সেনাবাহিনীকে পাকিস্তানে হামলার নির্দেশ দেন মোদি।

তার সাতদিনের মাথায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও পাল্টা হামলার আগাম অনুমোদন দেন ইমরান খান। কিন্তু লোকদেখানো সে পাল্টা ধমকির পরই গোপন যোগাযোগ শুরু করেছে পাকিস্তান।

ভারতকে ঠাণ্ডা করতে সেদেশে নিজ দল তেহরিক ই ইনসাফের এক হিন্দু এমপিকে ‘শান্তির দূত’ করে পাঠিয়েছেন ইমরান। রমেশ কুমার ভাঙ্কাওয়ানি নামের ওই প্রতিনিধি এরমধ্যেই ভারতের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভাঙ্কাওয়ানি। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, এ সাক্ষাতের মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও এক রিপোর্টে বলেছে, ‘ভারতের সঙ্গে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার।’ খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিনিধির ওপরও পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না ইমরান। পিটিআইয়ের অন্য এক প্রতিবেদনের দাবি, রোববার পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, ‘শান্তির জন্য একটা সুযোগ দিন।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার কথা রাখবেন।’ ভারতীয় কূটনীতিকদের ধারণা, শনিবার নরেন্দ্র মোদির এক জিজ্ঞাসার উত্তরেই এ কথা বললেন ইমরান।

এদিন রাজস্থানের টঙ্কের এক সমাবেশে মোদি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ইমরানকে দারিদ্র্য এবং অশিক্ষার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদি। সেসময় ইমরান বলেছিলেন, তিনি পাঠানের সন্তান। কথা দিলে সেই কথা রাখেন।’

ওই কথার লেজ ধরেই মোদি চ্যালেঞ্জ ছোড়েন, ‘পাঠানের সন্তান হলে কথা রাখুন ইমরান।’ এর একদিন পরই ইসলামাবাদ থেকে শান্তির সুর শোনালো পাকিস্তান। ভাঙ্কাওয়ানির মুখ থেকেও সেই শান্তি-আলোচনার কথাই শুনছেন ভারতের নীতিনির্ধারকরা।

সাক্ষাৎ শেষে রোববার পিটিআইকে ভাঙ্কাওয়ানি বলেন, আমি সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাকে বলেছি, দুই দেশের মধ্যকার ইস্যুগুলোর একমাত্র সমাধানের পথ হল আলোচনা। বলেছি, ভারতের সঙ্গে কোনো উত্তেজনা চায় না পাকিস্তান।

ভারতকে আশ্বস্ত করতে তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে নিজের মাটিকে কখনই কাউকে ব্যবহার করতে দেবে না পাকিস্তান। ভবিষ্যতেও কাউকে এমন অনুমতি দেয়া হবে না।’ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বিষয়গুলো সমাধান করা যাবে বলে আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখান থেকেই দুটি দেশকে ইতিবাচক পথে অগ্রসর হওয়া উচিত।’

এদিকে পুলওয়ামা হামলায় পাকিস্তানের হাত আছে। ওই অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই সে প্রমাণ পেয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। সেখানে দেখা গেছে একটি লাল ইকো গাড়ির।

ধারণা করা হচ্ছে, এই গাড়িতেই বিস্ফোরক বোঝাই করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল কনভয়ে। জিনিউজের খবরে বলা হয়, ভিডিও ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে লাল ওই গাড়িটির মালিককে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। ফুটেজে ধরা পড়েছে গাড়িটিকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক যুবক। সম্ভবত সে-ই আত্মঘাতী জইশ আদিল দার।

তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি হামলার পর থেকেই ওই গাড়ির মালিক এখনও লাপাত্তা। গোয়েন্দাদের অনুমান, ২০১০-১১ সালের মডেলের ওই গাড়িটিকে নতুনভাবে রং করা হয়েছিল। বিস্ফোরণস্থল থেকে গাড়িটির যে সকার পাওয়া গিয়েছে সেটি থেকে গাড়িটি সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য মিলতে পারে। হামলায় পাকিস্তানের হাত রয়েছে।