ব্রিটিশ রাজনীতি ব্রেক্সিটের ফাঁদে

রবিবার, জানুয়ারি ২০, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সরকার নাটকীয়ভাবে টিকে গেলো। তবে, একটি ব্রেক্সিট-সমঝোতা তাঁকে করতে হবে, যেটি পার্লামেন্টের সমর্থন পাবে।

বুধবার রাতে ডাউনিং স্ট্রিটে এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁরা যেন ব্যক্তিস্বার্থকে দূরে রাখেন। মতভিন্নতা আমলে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে এমপিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এর পরই জানানো হয়, লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন ও অন্যান্য পার্টির নেতাদের সঙ্গে সত্বর আলোচনায় বসবেন মে; নেতাদের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। আলোচনার উদ্দেশ্য একটি গ্রহণযোগ্য ব্রেক্সিট ডিল নিশ্চিত করা। যদিও পার্লামেন্টে বিতর্কের আগে মে এ ধরনের আলোচনা নাকচ করেছিলেন। এ-ও জানা গেছে, মে যদি ‘নো-ডিল’ দৃষ্টিভঙ্গি না ছাড়েন, তাহলে আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন না করবিন।

আগের দিন বিপুল ভোটে মে’র ব্রেক্সিট প্রস্তাব পার্লামেন্টে নাকচ হয়ে যায়। এরপর অনাস্থা প্রস্তাব আনে লেবার পার্টি। এ ইস্যুতে কনজারভেটিভ পার্টির বিদ্রোহী এমপিরা এবং ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে দাঁড়ান। অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ হয়, ১৯ ভোট বেশি পেয়ে কোনো রকমে টিকে যায় মে’র সরকার।

টেরেসা মে বলেছেন, তিনি বিব্রত বোধ করছেন। কারণ লেবার পার্টির নেতা আলোচনায় বসার বিষয়টি আমলে নেননি। তার পরও আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। এটি সহজ বিষয় নয়। তবে এমপিদের মনে রাখতে হবে, জাতির স্বার্থে কাজ করাই তাঁদের দায়িত্ব। একটি সমঝোতায় পৌঁছা জরুরি। এ গুরুদায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে।

স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা আয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বুধবার রাতে ওয়েস্টমিনস্টারে মে’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নেতা ভিন্স কেবলও প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

পরে ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, এসএনপি আলোচনায় বসবে, যদি মে নিশ্চিত করেন যে আলোচনার ভিত্তি হবে আর্টিকল ৫০-এর সম্প্রসারণ, নো-ডিল ব্রেক্সিট বাতিল করা এবং দ্বিতীয় গণভোটের প্রসঙ্গ।