মেয়েরা লেখাপড়া করবে কতদূর?

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

ঢাকা: মেয়েদের স্কুল কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ প্রাইমারী পর্যন্ত পড়ানোর জন্য শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে সমবেতদের ওয়াদা নেন হেফাজত ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফী। শিক্ষা অর্জন বাংলাদেশের সংবিধান সম্মত মৌলিক অধিকার হওয়ায় তার বক্তব্য সংবিধান বিরোধী দাবী করে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আহমদ শফীর বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মতামত এবং রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

ইসলামের কোথাও নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কোন কথা নেই উল্লেখ করে জাসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ধর্মের অপব্যখ্যা করে এবং মনগড়া ব্যখ্যা দিয়ে, ফতোয়া দিয়ে দেশ ও সমাজকে আলো থেকে অন্ধকারে নিতে চান হেফাজতের আমীরেরা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিবেদনে নারী-পুরুষের সমতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে স্থান পাওয়া বাংলাদেশ ছেলে ও মেয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতার ক্ষেত্রে আছে বিশ্বের সবার ওপরে। তবে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে দাবি করে শনিবার (১২ জানুয়ারি) বিবৃতি দিয়ে আহমদ শফী বলেছেন, তার নেতৃত্বে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী কওমি মাদ্রসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায় হাদিস পাশ করে এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মাষ্টার্সের সমমান সনদ পেয়ে রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় তিনি নারী শিক্ষার বিরোধী কোন বক্তব্য দিতে পারেন না।

তবে ২০১১ সালে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৯ এর তীব্র বিরোধীতা করার পর ২০১৩ সালে নারীদের তেতুলের সাথে তুলনা করে তাদের ঘরে আবদ্ধ থাকতে বলেছিলেন হেফাজতের আমীর।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচলক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লা।

উপস্থাপিকা অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনকে প্রশ্ন করেন, ‘শফি হুজুরের এই মন্তব্যের পর আবার সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমরা নিজেরা এই নিয়ে নানা রকম আলোচনা করছি। মেয়েরা কতদুর পড়বে সেটা নির্দিষ্ট করার অধিকার কারও আছে কিনা?’

উত্তরে ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘অবশ্যই না। আমি প্রথমেই শফী সাহেবের এই বক্তব্যর নিন্দা নয় ধিক্কার জানাই। সব সময়ই আমরা দেখছি তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলেই তিনি মনে হয় বার বারই এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। মেয়েদের ক্ষেত্রে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আলাদা কিছু নেই। আমাদের ৫২ ভাগ যেখানে নারী সেখানে নারী শিক্ষা বাদ দিয়ে নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং আপনি বলেছেন যে বাংলাদেশ একটি উদাহরণ হয়ে আছে এখন নারী শিক্ষায় নারীর অগ্রগতির যে মডেল হিসেবে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে প্রসংসিত। যেখানে আমাদের মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েরা সংখ্যায় বেশী। রেজাল্টও ভালো। সব দিক দিয়ে মেয়েরা এগিয়ে। সেখানে এ ধরনের বক্তব্য আমি মনে করি আমাদের একটা গভীর ষড়যন্ত্র বিবেককে পিছিয়ে দিয়ে আবার মেয়েদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার মধ্যযুগীও কায়দায় মেয়েদের ফিরিয়ে দিয়ে আবার দেশটাকে পিছিয়ে দেওয়ার একটা অপকৌশল।’