অনুদানের ৯৩ ভাগই বিজেপির পকেটে!

শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দিল্লির ক্ষমতায় বসে শিল্পপতিদের অনুদানের সিংহভাগই টেনে নিয়েছে ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। জাতীয় দলগুলিকে দেওয়া বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যের ৯৩ শতাংশই গিয়েছে শাসক দলের পকেটে।

দেশটিতে কোনও ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলকে ২০ হাজার টাকার বেশি সাহায্য দেয়, সেই তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়।

২০১৭-১৮ সালের হিসেব বলছে, ওই বছরে জাতীয় দলগুলিকে দেওয়া মোট ৪৬৯ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকার মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪৩৭ কোটি ৪ লক্ষ টাকা। কংগ্রেস পেয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা, এনসিপি ২ কোটি টাকা, সিপিএম ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা, সিপিআই ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা এবং তৃণমূল ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছে।

বিএসপি জানিয়েছে, তারা কারও থেকেই ২০ হাজার টাকার বেশি অঙ্কের সাহায্য পাননি। বিএসপি জানিয়েছে, তারা কারও থেকেই ২০ হাজার টাকার বেশি সাহায্য পাননি। নির্বাচনী সংস্কারের সঙ্গে জুড়ে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ বৃহস্পতিবার এই তথ্য সামনে এনেছে।

তাৎপর্যের বিষয় হল, ওই বছরে জাতীয় দলগুলিকে সবচেয়ে বেশি অঙ্কের অর্থসাহায্য করেছে ‘প্রুডেন্ট ইলেকটোরাল ট্রাস্ট’ নামে একটি সংস্থা। শুধুমাত্র এরাই বিজেপিকে দিয়েছে ১৫৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, যা শাসক দলের মোট প্রাপ্তির প্রায় ৩০ শতাংশ।

ওই ট্রাস্ট কংগ্রেসকেও ১০ কোটি টাকা দিয়েছে। তবে দেখা গিয়েছে, অর্থপ্রাপ্তির তালিকা পেশ করতে গিয়ে জাতীয় দলগুলি দাতাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য হাজির করেনি। বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই তাদের ২১৯ জন দাতার প্যান নম্বরই দেয়নি। এরাই অবশ্য বিজেপিকে প্রায় ৪ কোটি টাকা সাহায্য করেছে। টাকা পেয়েছে অন্যরাও।

চারটি জাতীয় দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল মিলিয়ে মোট ৮০ লক্ষ টাকা অর্থসাহায্য পেয়েছে, যেখানে ৬০ ক্ষেত্রে প্যান নম্বর ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ ভাবে দেওয়া হয়েছে।তৃণমূল ৩৩ জন দাতার থেকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছে। তবে চেক নম্বর, ব্যাঙ্কের নাম কিংবা তারিখ জানানো হয়নি। সিপিআই ৮২ জন দাতার থেকে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা পেলেও চেক সংক্রান্ত পূর্ণ তথ্য সামনে আনেনি।

তবে ২০১৭-১৮ সালে দেশের জাতীয় দলগুলির অনুদানের অঙ্ক আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১৯ কোটি টাকা কমে গিয়েছে। সেই হিসেবে বিজেপির অনুদান ৫৩২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা থেকে কমে ৪৩৭ কোটি ৪ লক্ষ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার