পঞ্চগড়ে শীত ও ঘনকুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত

বুধবার, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : দেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ১৬দিনে জেলায় তাপমাত্রা অপরিবর্তিত রয়েছে।

শীত ও ঘন কুয়াশার করণে পঞ্চগড়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্যস্ততম রাস্তাগুলো থাকছে জনশূণ্য। দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। শীতের কারণে কর্মহীন ও খাদ্য সংকটে পড়েছে জেলার সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে গত ১ জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। এ মাসে দেশে দু থেকে তিনটি মৃদ্যু ও মাঝারী শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে যার মধ্যে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের রুপ নিতে পারে।

বুধবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে শীতের দাপটে দিনমজুর মানুষরা ঘর থেকে সময় মত বের হতে না পারায় একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সাথে যারা বের হয়েছে তারা কোনমতে কর্মস্থানে যাচ্ছে।

শীতবস্ত্রের পাশাপাশি পঞ্চগড়ে এসব অভাবী মানুষের এই মূহুর্তে খাদ্য সহায়তা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সচেতন মহলের দাবি। দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় খড়-কুটা জালিয়ে মানুষ শীত নিবারনের চেষ্ঠা করছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে শহর-বাজারে লোকজনের আনাগোনাও কমে গেছে।

হিমালয় ছোঁয়া পঞ্চগড় হওয়ায় এ জেলায় দিন দিন বেড়েই চলছে শীতের অনুভূতি। পাহাড়ী হিমেল হাওয়া ও শৈত্যপ্রবাহে গত ১ জানুয়ারী থেকে শীতের তীব্রতা অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে পঞ্চগড়ের শীর্তাথ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রাকে বির্পযস্ত করে তুলেছে। অসহনীয় এই অব্যাহত শীতে শিশু এবং বয়স্ক মানুষ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে। দেখা গেছে, ছিন্নমুল মানুষ শীতবস্ত্রের আশায় প্রতিদিন ধর্না দিচ্ছে প্রশাসনের দারে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার ৫টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ৩টি পৌরসভায় প্রায় ৪০ হাজার কম্বল সহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়েছে। আরো জানা যায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ে এসে পঞ্চগড়কে শীতপ্রবন জেলা হিসেবে বলে তাৎক্ষনিক ৫ লাখ টাকা ও ৫ হাজার শীতের কম্বল বরাদ্দ দেন।

এদিকে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়স।

যা আজকের দিনে গতবছর তাপমাত্র সর্ব নিম্ন ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়স তাপমাত্রা। এর আগে মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্ধা ৬টায় রেকর্ড করা হয়েছিল ২২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়স তাপমাত্রা বলে এই কর্মকর্তা আরো জানান।