সন্ত্রাস-নোংরা কৌশলে ভোটাধিকার ছিনতাই করা হয়েছে: রিজভী

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নৃশংস সন্ত্রাস চালিয়ে এবং সব ধরনের নোংরা কৌশল অবলম্বন করে জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতির পর গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে শিকল পরানো হয়েছে।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে বরাবরই প্রতারণা করার দল আওয়ামী লীগ। যারা এখন নিজেদের সরকার বলে দাবি করছে, তারা অবৈধ ও ভোট সন্ত্রাসী।

নীলনকশার নির্বাচন করতেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে আটকে রাখা হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ মামলায় বন্দি করার মূল কারণই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির এ রকম নির্বাচন সম্ভব ছিল না।

খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জনগণের মাঝে উচ্চারিত একজন জনপ্রিয় নেত্রীর নাম। তিনি জীবনে কখনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। পাঁচটি ও সবশেষে তিনটি আসনে তিনি বাংলাদেশের যে প্রান্ত থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।

জনপ্রিয়তা খালেদা জিয়ার জন্য কাল হয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, বিপুল জনপ্রিয়তাই খালেদা জিয়ার জন্য কাল হয়েছে। তার এই জনপ্রিয়তা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারেনি আওয়ামী লীগপ্রধান ও দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা।

খালেদা জিয়াকে সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক মন্তব্য করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তাই তিনি কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন এমন সব অভিযোগ ও মামলায় সুপরিকল্পিতভাবে তাকে সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছে সরকার। তার জামিন নিয়ে টালবাহানা করছে সরকার।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে বন্দি করার অর্থ গণতন্ত্রকে বন্দি করা। এ দেশে যে দৃঢ়, অকপট, সত্যবাদী ও প্রতিবাদী তার জায়গা হয় কারাগারে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, মানুষের বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস প্রবাহিত করতে হবে।

এ জন্য দেশের জনগণের ঐক্য ও সংহতি অপরিহার্য। আর জনগণের ঐক্যের প্রতীক খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হবে।