ব্যাংকে টাকা জমা না রেখেই উত্তোলন!

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৫, ২০১৯

ঢাকা: পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের চকবাজার শাখায় টাকা জমা না করেই এই ব্যাংকের একটি হিসাব নম্বরের বিপরীতে তিনটি হিসাব নম্বরে ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। সেই টাকা তুলে আত্মসাতে সহায়তার অভিযোগে তিন কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কোনো আইনী ব্যবস্থা না নিতে এক আসামি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সোমবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ব্যাংকের চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপকসহ তিন কর্মকর্তা ও চার গ্রাহকের নামে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করে। এ সময় তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ‘পূবালী ব্যাংক চকবাজার শাখার গ্রাহক মো. হারুনুর রশিদ (৪৪) গত ৭ জানুয়ারি তিনটি ভিন্ন হিসাব নম্বরে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার তিনটি চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে ক্যাশ অফিসারকে অনুরোধ করেন ওই হিসাব নম্বরগুলোতে টাকা ট্রান্সফার করে দিতে। তার হিসাব নম্বরে বড় অঙ্কের টাকা জমা হচ্ছে।

ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ইকরামুল রেজা রেজভী ও অফিসার (কম্পিউটার) চন্দন দে মিলে মো. হারুনুর রশিদের ব্যাংক হিসাবে কোনো টাকা জমা না হওয়া সত্ত্বেও বায়বীয় জমা দেখিয়ে তিনটি হিসাব নম্বরে মোট ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে দেন। পরে এ টাকা মো. হারুনুর রশিদ, মো. ইলিয়াছ, আবু ছৈয়দ ও শেখ মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ মিলে তুলে নেন।’

জানা যায়, সাত দিন গোপন রেখে রোববার (১৩ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান পূবালী ব্যাংক চকবাজার শাখার ব্যবস্থাপক এনামুল করিম চৌধুরী। এনামুল করিম চৌধুরীর কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় সোমবার পূবালী ব্যাংকের পূবালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও চট্টগ্রাম উত্তর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম মজুমদার এনামুল করিম চৌধুরীসহ সাতজনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। এ সময় ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা এনামুল করিম চৌধুরী, ইকরামুল রেজা রেজভী ও চন্দন দে’কে পুলিশে সোপর্দ করেন তিনি।

সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনজুরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অর্থ আত্মসাতের এ মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করবে বলে জানা গেছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপ-পরিচালক মু. মাহবুবুল আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো কাগজ হাতে পাইনি। মামলার কাগজ হাতে পাওয়ার পর দুদক কাজ শুরু করবে।