জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ৮ নভেম্বর

রবিবার, নভেম্বর ৪, ২০১৮

ঢাকা: আগামী ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা ওইদিন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে এ তফসিল ঘোষণা করবেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রোববার অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এবং চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা। তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোতেও। বসে নেই সরকারও। দেশে নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে এরইমধ্যে ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ চলছে। ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। গত বুধবার আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কর্মযজ্ঞ শুরু করছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে প্রাক-প্রস্তুতির প্রায় সবই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত, তিনশ আসনের সীমানা নির্ধারণ, ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখের বেশি ভোট কক্ষের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনেক নির্বাচন সামগ্রী ক্রয় করে গুদামজাত করা হয়েছে। অবশিষ্টগুলো ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই কেনা হবে। ওই বৈঠকের সিদ্বান্তগুলোর বিষয়ে ইসি সচিব জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ১০ তারিখের মধ্যে সব স্কুলের পরীক্ষা যেন শেষ হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যেন সহজে বাংলাদেশের ভিসা পেতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এছাড়া ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি কারা আছেন, তাদের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের ব্যাংকিং বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন, সে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে, তফসিল ঘোষণার পর এবং নির্বাচনের দিনও যেন পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া যায়, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে সব নির্বাচনী এলাকার ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুনসহ সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণামূলক সরঞ্জাম সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান হেলালুদ্দীন আহমেদ। এছাড়া, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপর ও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকে, সেজন্য সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে পারে এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করতে ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে স্বাক্ষাত করে কমিশন। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর সাথে চলমান সংলাপের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষায় না থেকে এ সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনের ডামাঢোল পেটানোর ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিইসিকে তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছিল সংলাপের দোহাই দিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত ঘোষনা অনুযায়ী এ সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক করে ইসি।

এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, চলমান সংলাপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমরা আমাদের মতো করে তফসিল ঘোষণা করবো। সংলাপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবো না। রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে আমাদের কিছু বলার নাই। তবে বিশ্বাস আছে যে সবাই নির্বাচনে আসবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশোধিত আরপিও অনুমোদন পেলে এটিও কার্যকর করবে কমিশন। তফসিলের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল তৈরি প্রভৃতি। এবারের সংসদ নির্বাচনে স্বল্প পরিসরে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে কমিশনের। তবে সেটি কম সংখ্যক ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এই নির্বাচনে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। তবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন তারাও ভোট দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটার সংখ্যা আরো কিছু বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা। তারা জানান, দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটার প্রতি মাথা পিছু ব্যয় ৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল ইসি। কিন্তু, ওই হারে প্রার্থীরা টাকা ব্যয় করেছিলেন কিনা তা মনিটরিংয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। এবারও একইভাবে রাখা রয়েছে।

উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা।

এর আগে, দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেই হিসাবে সংবিধান অনুয়ায়ী আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে। আর ৩১ অক্টোবর থেকে ৯০ দিন গণনা শুরু হয়েছে।