ফের ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

শুক্রবার, নভেম্বর ২, ২০১৮

ঢাকা : ঢাকা জেলার সাভারের আশুলিয়া থানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, জমি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ নিয়ে আশুলিয়া থানায় জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের হলো।

শুক্রবার আশুলিয়া থানার (ওসি) রিজাউল হক জানান, বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ও লেজার মেডিকেলের এক্সিকিউটিভ, লিগ্যাল অ্যান্ড রেগুলেটরি তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলাটি (নং-৪) দায়ের করেন।

মামলার অন্য হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম শিশির, আব্দুস সালাম ও আওলাদ হোসেনসহ (৪৮) আরও অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৬ জন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লেজার মেডিকেলের মালিক ডা. জাহানারা ফেরেদৌস খান তার বাবার কাছে থেকে হেবামূলে ২ দশমিক ১৭ একর সম্পত্তি পেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে ছিলেন। কিন্তু জাফরুল্লাহ জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলপত্র সৃজন করে ওই জমির মালিকানা দাবি করে ২০১২ সালে বিজ্ঞ যুগ্ম-জেলা জজ নম্বর আদালত, ঢাকায় দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-৯৯৪/২০১২ দায়ের করেন এবং যা এখন পর্যন্ত বিচারাধীন রয়েছে।

পরবর্তীতে ওই জমিতে ডা. জাহানারা ফেরেদৌস খান প্রবীণদের জন্য ‘জেরিয়াট্রিক হাসপাতাল’ করতে গেলে জাফরুল্লাহর নির্দেশে সন্ত্রাসীরা বাধার দিয়ে আমাদের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে ফেলে এবং জমির মালিকের স্বামীর কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর গত ১৬ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাহানারা ফেরেদৌস খান তার মালিকানাধীন জমিতে গেলে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মো. সাইফুল ইসলাম শিশির, আব্দুস সালাম, দেলোয়ার হোসেনসহ ১০ সন্ত্রাসী তার জমিতে বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নং-১৪১) দায়ের করা হয়।

এরপর গত ২৭ অক্টোবর আমি ওই জমিটি দেখাশোনার জন্য গেলে জাফরুল্লাহর নির্দেশে সাইফুল ইসলাম শিশির, আব্দুস সালাম এবং আওলাদ হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৬ জন সন্ত্রাসী আবারও আমার কাছে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে এবং মালিকের কেয়ারটেকারকে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

এর আগে মাছ চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আশুলিয়া থানায় জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলা দায়ের হয়। অবৈধভাবে জমি দখল, চাঁদাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি, মারপিট, লুট, চুরিসহ নানা অভিযোগে গত ১৫ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী নামে এক ব্যক্তি একটি, ১৯ অক্টোবর হাসান ঈমাম একটি, ২১ অক্টোবর সেলিম আহমেদ একটি এবং ২৩ অক্টোবর নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি একটি মামলা করেন। সবশেষ ২৪ অক্টোবর কাজী মহিবুর রব নামে এক ব্যক্তি ডা. জাফরুল্লাহকে প্রধান আসামি করে দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মাছ চুরির মামলা করেন।