আজ সেই রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর

রবিবার, অক্টোবর ২৮, ২০১৮

নিউজ ডেস্ক: আজ সেই রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালের এই দিনে এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায় রচিত হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে নারকীয় উল্লাস চালানো হয়েছিল।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতায় সেদিন নিহত হন ১৩ জন। রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের ৬ জন এবং ছাত্রমৈত্রীর একজন কর্মী প্রাণ হারান।

পিটিয়ে মানুষ মেরে লাশের উপর নৃত্য উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা বিশ্বের বিবেকবান মানুষের হৃদয় নাড়া দিয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হতাহতের ঘটনা ঘটে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল আহূত অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে।

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় তাণ্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে চালানো হয় হামলা, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর।

চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ২৮ অক্টোবর বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে সমাবেশ করছিল। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পল্টন এর আশেপাশে অবরোধ করে। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পল্টন, তোপখানা, বিজয়নগর, গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকা।

এতে ঘটনাস্থলেই জামায়াত-শিবিরের ৬ জন এবং ছাত্রমৈত্রীর একজন কর্মী প্রাণ হারান। লগি-বৈঠা, গুলি আর ইটপাটকেলের আঘাতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় এই ছয়জনই নিহত হন। ওই দিন প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যার পরে লাশের ওপর নৃত্য করা হয়, যা সারা বিশ্বের মানুষকে হতভম্ব করেছে।

এই ঘটনায় পল্টন ও শাহবাগ থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়। পল্টন থানায় দায়েরকৃত পাল্টাপাল্টি দু’টি মামলার একটি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই প্রত্যাহার করা হয়। ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য মামলাগুলোও পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হয়। ওই সব মামলায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, তোফায়েল আহমেদ, মো: নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননসহ ১৪ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা আসামি ছিলেন। অপর দিকে মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করে যে মামলাটি হয়েছিল তা উচ্চ আদালত স্থগিত করে রেখেছেন।