ইন্দোনেশিয়ার এলাচ উৎপাদন খাত প্রবৃদ্ধির ধারায়

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

ঢাকা; ইর্ন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ও ক্রান্তীয় জলবায়ু মসলা উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মসলা উৎপাদন ও রফতানি করে। ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত ও দেশটি থেকে রফতানি হওয়া মসলার মধ্যে অন্যতম এলাচ। ছয় বছরের মধ্যে শুধু ২০১৬ সাল বাদে প্রতি বছরই দেশটিতে এলাচ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে। চলতি বছর শেষেও ইন্দোনেশিয়ায় মসলা পণ্যটির উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। খবর জাকার্তা পোস্ট।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ এলাচ উৎপাদনকারী দেশ। পণ্যটির মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ ইন্দোনেশীয় কৃষকরা এককভাবে উৎপাদন করেন। ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এগ্রিকালচারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৪২ হাজার ৯৭৩ টন এলাচ উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর দেশটিতে মসলা পণ্যটির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪ হাজার ১৭১ টনে। ২০১৪ সালে দেশটিতে এলাচের উৎপাদন আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৮৫১ টনে।

২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি এলাচ উৎপাদন হয়েছিল। এ সময় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ১২১ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ হাজার ২৭০ টন বেশি। বছরের ব্যবধানে ২০১৬ সালে দেশটিতে এলাচ উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৯৭৭ টন কমে যায়। এ সময় ইন্দোনেশিয়ায় সব মিলিয়ে ৮৬ হাজার ১৪৪ টন এলাচ উৎপাদন হয়েছিল।

মূলত ভরা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় এলাচ উৎপাদনে মন্দাভাব দেখা গিয়েছিল। পরের বছর (২০১৭ সাল) দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ হাজার ৭৮৭ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ হাজার ৬৪৩ টন বেশি। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি বছর শেষে ইন্দোনেশিয়ায় ৯১ হাজার টনের বেশি এলাচ উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়।

এলাচ রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। পণ্যটির মোট বৈশ্বিক রফতানির ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ দেশটি এককভাবে জোগান দেয়। এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এগ্রিকালচারের আওতাধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হর্টিকালচারের পরিচালক প্রিহাস্তো সেইতান্তো জানান, এলাচ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনামূলক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। পণ্যটির উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ইন্দোনেশীয় রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচ রফতানি করতে পারছেন। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া থেকে ভারত ও মিসরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলাচ রফতানি হচ্ছে।