আপনার বিবৃতিতেও মানুষ নির্যাতন বোধ করে : রিজভী

সোমবার, অক্টোবর ২২, ২০১৮

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আপনার কথা, বক্তব্য, বিবৃতিতেও মানুষ নির্যাতন বোধ করে।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যুব সমাজ, তরুণ সমাজ, ছাত্রসমাজ, কৃষক, শ্রমিক ওও মেহনতি জনতা আপনার দুঃশাসনের যাতাকলে পিষ্ট। তারা আপনাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। চক্রান্তের বেড়াজাল তৈরি একের পর এক কালাকানুন প্রণয়ন করে, মানুষ হত্যা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে আর রেহাই পাওয়া যাবে না। ডিজিটাল কালাকানুন গ্রাস করেছে দেশের গণতন্ত্রকে। দিগন্ত রেখায় আপনার পতনের চিহ্ন ফুটে উঠছে। চারদিকে এখন শুধু সরকার পতনের আওয়াজ ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আওয়াজ। নিপীড়ন নির্যাতনের পাশাপাশি আপনার কথা, বক্তব্য, বিবৃতিতেও মানুষ নির্যাতন বোধ করে।

দেশজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে গুপ্ত হত্যা মন্তব্য করে তিনি বলেন, গতকাল নারায়নগঞ্জে সড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ ৪ যুবকের ও উত্তরায় দিয়াবাড়ির কাশবনে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও সারাদেশে এখন আবারও সড়কের পাশে, নদীর ধারে, ঝোঁপঝাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে যুবকদের রক্তাক্ত লাশ। এর সঙ্গে বিচারবর্হিভূত হত্যা প্রতিদিন চলছেই।

রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ-যুবক সমাজকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্যই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাইকারি গুপ্ত হত্যা শুরু হয়েছে দেশব্যাপী। আর এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়েছে ইনডেমনিটি। কারণ একটাই, অবৈধ সরকার যাদেরকে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্ধী মনে করবে তাদেরই লাশ ধানক্ষেত, খাল বিলে পড়ে থাকবে।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি আখ্যায়িত করে, তাদের কর্মসংস্থানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা এ কথা বলে কী তরুণদের উপহাস করছেন? প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত বক্তব্যের সাথে সত্যের কোন সম্পর্ক নেই। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাই তরুণ প্রজম্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন। বেকারত্বের অভিশাপে দেশের তরুণ সমাজ আজ হতাশ ও বিপন্ন।

সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের কারণে উচ্চ শিক্ষিত বেকার বেড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ১০ টাকায় চাল খাওয়াব, ঘরে ঘরে চাকুরি দিব। গত ১০ বছরে দুঃশাসনে আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বৈরাচার সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বেকার উপহার দিয়েছেন। আর ১০ টাকার চালতো এখন কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও চালের দাম বৃদ্ধির উন্নয়ন ছাড়া শেখ হাসিনার আর কোন অর্জন নেই।

রিজভী বলেন, অর্থমন্ত্রী গতকাল সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছেন দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন ৩ কোটি। হত দরিদ্রের সংখ্যা ১ কোটি। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে সরকারি আরেক পরিসংখ্যান বলেছে, দেশে তাদের মতে হত দরিদ্র মানুষ রয়েছে প্রায় ২ কোটি আর দারিদ্রসীমার নিচে বাস করেন সাড়ে ৩ কোটি। বাস্তবে দেশের অর্ধেক জনগোষ্টিই এখন দরিদ্রসীমার নিচে বাস করছে।

আজ জাতীয় সড়ক দিবস উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমজনতা শিশু কিশোরদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল। নিরাপদ সড়কের নামে একটি লোক দেখানো আইন করেছিল। কিন্তু আজও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। গণপরিবহণের নৈরাজ্য থামেনি। এখনও শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষের লাশ রাজপথে থেঁতলে যাচ্ছে।