ইউরোপের পার্লামেন্টেও যৌন হয়রানির শিকার নারী!

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এক গবেষণায় জানা গেছে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক নারী রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের নারী সদস্যই সহিংসতার শিকার হয়েছেন৷ এমন সব ঘটনায় নারীরা যাতে নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারেন, তেমন ব্যবস্থাও নেই ইউরোপের অধিকাংশ পার্লামেন্টে৷

ইউরোপের প্রায় অর্ধেক নারী রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের নারী সদস্যই সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে এক গবেষণায় জানা গেছে৷ এমন সব ঘটনায় নারীরা যাতে নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারেন, তেমন ব্যবস্থাও নেই ইউরোপের অধিকাংশ পার্লামেন্টে৷

মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়া এ গবেষণা বলছে, নারী রাজনীতিবিদ ও পার্লামেন্টের নারী সদস্যরা হত্যা, নির্যাতন, এমনকি ধর্ষণের হুমকিও পেয়ে থাকেন৷ সন্তানকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকে৷

ইউরোপীয় কাউন্সিলের পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের সংগঠন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন এই তথ্য প্রকাশ করেছে৷

গবেষণায় অংশ নেয়া নারীদের ৮৫ শতাংশ বলছেন, তারা মানসিক আক্রমণের শিকার হয়েছেন৷ মোট ৬৮ শতাংশ বলছেন, নারী হওয়ার কারণে তাদের বিভিন্ন আক্রমণাত্মক কথা শুনতে হয়েছে৷ ২৫ শতাংশ সরাসরি যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন৷

এমন সহিংসতার শিকার সবচেয়ে বেশি হয়েছেন ৪০ বা তার চেয়ে কম বয়সি নারীরা৷ পার্লামেন্ট কর্মীদের ৪৯ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে হয়রানির কথা বলছেন৷ এসব হয়রানির ৭০ ভাগই সংগঠিত হয়েছে পুরুষ রাজনীতিবিদদের দ্বারা৷

ট্রাম্পের হাতে ‘যৌন হয়রানির’ শিকার যত নারী
স্টর্মি ড্যানিয়েলস: পর্ন স্টার স্টর্মির সাথে ট্রাম্পের সেক্স স্ক্যান্ডাল এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত৷ নির্বাচনের বছরে স্টর্মির সাথে যৌনমিলনের ব্যাপারটি গোপন রাখতে ট্রাম্পের কৌঁসুলিরা তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন৷ স্টর্মির দাবি, ২০০৬ সালে যখন তার বয়স ২৬ ছিল, তখন ট্রাম্পের সাথে তার ১০ মাস প্রেম চলেছে এবং এর মধ্যে একবার তাদের যৌনমিলনও হয়৷ আর ঘটনাটি চাপা রাখতেই তাকে অর্থ দেওয়া হয়৷ ট্রাম্প অবশ্য এটা অস্বীকার করেন৷

ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট গাব্রিয়েলা কুয়েভাস জানিয়েছেন, ‘‘গবেষণার এই ফল দেখিয়ে দিয়েছে পার্লামেন্টে নারীর প্রতি সহিংসতা আমরা যেমন ভাবতাম, তার চেয়েও বেশি খারাপ৷ এই তথ্য একজন নারী এমপি হিসেবে আমার জন্যও উদ্বেগের৷“

তিনি বলেন, ‘‘হয়রানি শুধু নারী অধিকারের চরম লঙ্ঘনই নয়, গণতন্ত্রের জন্যও ক্ষতিকর৷“ ইউরোপের ৪৫টি দেশের পার্লামেন্ট থেকে মোট ১২৩ জন (৮১ জন এমপি ও ৪২ জন কর্মী) এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন৷

বিচারহীনতা: ইউরোপের বেশিরভাগ পার্লামেন্টে এ ধরনের হয়রানির ঘটনায় নারীদের সাহায্য চাওয়া বা বিচার প্রার্থনার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই৷ ফলে হয়রানি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন পুরুষ এমপিরা৷

যৌন হয়রানির শিকার মাত্র ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী এমপি ও ৬ শতাংশ পার্লামেন্ট কর্মী লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কথা জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কাজ করা নারীরাই এসব আক্রমণের শিকার হয়েছেন বেশি৷

সূত্র-ডয়েচে ভেলে