‘উগ্রবাদী’ রাষ্ট্র গড়ার মহড়া ছিল ১৭ আগস্ট: হানিফ

বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০২২

ঢাকা: ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে উগ্র মৌলবাদি রাষ্ট্র গড়ার চক্রান্ত করে আসছিলো। তার চূড়ান্ত মহড়া ছিলো ১৭ আগস্ট।

বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রধান ফটকের সামনে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, সারাদেশে একসঙ্গে ৬৩ জেলায় পাঁচশ’র বেশি জায়গায় সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ছিলো না। বিএনপি জঙ্গীদের হাতে শত শত ট্রাক অস্ত্র তুলে দিয়েছিলো। চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক হয়েছিলো। তারা বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলো।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিলো। শেখ হাসিনা সেই অন্ধকার রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশকে আলোয় উদ্ভাসিত করে উন্নয়ন, অগ্রগতিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

হানিফ বলেন, বিএনপি নেতারা কথায় কথায় বলে টেক ব্যাক বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোথায় নিয়ে যাবে? তারা বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের তালেবানি পাকিস্তান, আফগানিস্তনের মতো দেশে নিয়ে যেতে চান।

বিএনপি পাঁচ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারেনি উল্লেখ করে হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন বানিয়ে দেশের সম্পদ লুট করেছে, দেশকে উগ্রবাদ, মৌলবাদেরদিকে নিয়ে গিয়েছিলো। আজকে আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতা-কর্মী মাঠে নেমেছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, যেকোনো মূল্য সকল চক্রান্ত প্রতিরোধ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে উন্নয়ন অগ্রগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বজলুর রহমান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেনও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী প্রমুখ।

বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, মৎসজীবী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ নেতা-কর্মীরাও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে যোগ দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।