হরতাল-অবরোধ সময়মতো: নজরুল

মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

ঢাকা: সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ- এমন দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী দিনে বিএনপি যে কর্মসূচি দেবে তাতে জনগণ সম্পৃক্ত হবে। তবে যখন সিদ্ধান্ত হবে তখন হরতাল-অবরোধ করা হবে।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ। আর এ কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ হচ্ছে। সংগঠিত হচ্ছে। এ কারণে যে কর্মসূচিই বিএনপি দেবে, তাকেই জনগণ সম্পৃক্ত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা হরতাল করি না, বা করতে পারি না- তা না। কিন্তু যখন-তখন করব কেন? আমরা অবরোধ এর আগে করতে পারি নাই তা না। কিন্তু যখন-তখন করব কেন? যখন করার সিদ্ধান্ত হবে তখন করব। জনগণের সংঘবদ্ধ সংগ্রাম প্রতিরোধ মানেই আন্দোলন। সেটা হরতালের মাধ্যমে হতে পারে। আরও বিভিন্ন মাধ্যমে হতে পারে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি দায়সারা কর্মসূচি দিয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে। জনসম্পৃক্ত এই ইস্যুতে বিএনপি কঠোর কর্মসূচি দিতে পারে এমন ভাবনাও ছিলো অনেকের।

বিএনপি এবার যে কর্মসূচি দেবে, তা খুবই সফল হবে বলেও মনে করেন দলটির এই শীর্ষ নেতা। বলেন, ‘সরকারের যে অযোগ্যতা রাষ্ট্র পরিচালনায়, যে ব্যর্থতা- এর বিরুদ্ধে জনগণের মত সংগঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংগঠিত হচ্ছে। তাতে আগামী দিনে যখনই কর্মসূচি দেব, জনগণ সম্পৃক্ত হবে।’

আন্দোলন নিয়ে বিএনপিকে কোনো মতভেদ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের অনেক মন্ত্রীরা আছেন তারা বলেন আমরা নাকি আন্দোলন করতে পারি না। তারা আন্দোলন বলতে যা বুঝে এটা যদি সবাই বুঝতে চান তাহলে বিপদ হবে। এটা যদি সভ্য দেশ হতো, তাহলে অন্যান্য সভ্য দেশের মতো বেশ কিছু লোক যদি একত্রে দাবি জানাত, তাহলে সেই দাবির বিবেচনা করে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিত।’

নবগঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ সম্পর্কে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কারণ, আমরা যে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছি, জাতীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলছি, সে ক্ষেত্রে একটা অগ্রগতি বলেই আমরা মনে করি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তারা যেসব দাবি উল্লেখ করেছে সেই দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আমরা করে আসছি। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনরায় গঠন করতে হবে। এই সবগুলো কথা তাদের দাবিতে আছে আমরা দেখলাম। দীর্ঘদিন যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলে আসছি তার একটা সাফল্য। এই জোট গঠনের ফলে আগামীদিনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের এক ধাপ অগ্রগতি।’

বিএনপি সরকারবিরোধী ‘বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে তার অগ্রগতি কতদূর- জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ব্যাপারগুলো আলোচনার মাধ্যমে হয়। আগে থেকে বোঝা গেলে ব্যর্থ করে দেয়ার লোক আছে। কিছু মন্ত্রীদের কথায় বিভ্রান্ত হয়েন না। বড়ই বিপদে আছে তারা।’

বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় আসতে চায় না জানিয়ে তিনি বলেন,’দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন, সরকার পতনের লড়াইয়ে যারা যুক্ত থাকবেন, তাদের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ পরিচালনার কাজ করব।’

আশুরা উপলক্ষে এদিন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। তার আগে আলোচনা সভা হয়।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল খালেক, ধর্ম বিষয়ক সহ সম্পাদক আবদুল বারী ড্যানি, ওলামা দলের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা মাহমুদুল হাসান শামীম আলোচনায় অংশ নেন।

ওলামা দলের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের রফিক হাওলাদার, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, শ্রমিক দলের সুমন ভুঁইয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।