ডাকাতি-ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনায় সেই নারী

শুক্রবার, আগস্ট ৫, ২০২২

টাঙ্গাইল: কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামগামী ঈগল পরিবহনের একটি চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে দলবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণ ও অস্ত্রের মুখে ঘুমন্ত যাত্রীদের হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে জিম্মি করে নির্যাতন, লুটপাটসহ ডাকাতির ঘটনায় লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সেই ভুক্তভোগী নারী। বৃহস্পতিবার (৪

আগস্ট) সন্ধ্যায় দণ্ড বিধির ২২ ধারায় টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমি খাতুন ওই নারীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে ঘটে যাওয়া লোমহর্ষক সেই ঘটনার বর্ণনা দেওয়াকালে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের বাসে ওঠে ঢাকা যাচ্ছিলাম। সিরাজগঞ্জের ৩টি আলাদা জায়গা থেকে ১০ জনের ডাকাত দল বাসে ওঠে। ডাকাতি শুরুর আগে আমার পাশের খালি সিটে ডাকাতদের একজন বসতে চাইলে তাকে আমি বসতে দিইনি। ডাকাতি শুরু করলে আমি তাদের বাধা দিয়েছিলাম। এ কারণে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়’।

তিনি বলেন, ‘বাস চালকের কাছে গিয়ে ৩ জন ডাকাত প্রথমে তাকে জিম্মি করে। চালকের গলায় ছুরি চেপে ধরে সিট থেকে উঠতে বলে। এক পর্যায়ে তারা চালককে বেঁধে ফেলে। এ সময় তারা আমার পাশের সিটে বসা হেলপারকে তুলে নেয়। আমার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা আমার হাত-মুখ চোখ বেঁধে ফেলে এবং ধর্ষণ করে’।

তিনি আরও বলেন, ‘ডাকাতরা যার কাছে টাকা বেশি পেয়েছে তাকে কিছু বলেনি। সবার কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার সহ সব কিছু লুটে নেয়। একজন মহিলা তার স্বামীকে ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য তার কাছে সব টাকাও তারা কেড়ে নেয়’।

জবানবন্দিতে ওই নারী ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘ঘটনার সঠিক বিচার না হলে আজ এক নারীর সঙ্গে যা ঘটেছে কাল আরেক নারীর সঙ্গেও তা ঘটবে। আমি ওদের ফাঁসি চাই। যাতে ওদের দেখে অন্যরা ভালো হয়ে যায়’।

এদিকে, লোমহর্ষক এ ঘটনায় জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত রাজা মিয়ার (৩২) কে ৭ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করে আদালতের সামনে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মধুপুর আমলী আদালতের বিচারক বাদল কুমার চন্দ শুনানী শেষে ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের পরিদর্শক তানভীর আহাম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ২৪ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে সেখান থেকে একদল ডাকাত যাত্রীবেশে ওই বাসে ওঠে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পাড় হওয়ার পর অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের বেঁধে ফেলে।

এ সময় দলটি বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। এক পর্যায়ে তারা বাসযাত্রী এক নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তিন ঘণ্টা তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। এরপর পরে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তুপে বাসটি ফেলে পালিয়ে যায়।