রহিম-নুরের রক্তের বিনিময়ে এই সরকারের পতন হবে: গয়েশ্বর

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৪, ২০২২

ঢাকা: প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে বিএনপির দুই নেতার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বাংলার মাটিতে কোনো রাজনৈতিক কর্মীর রক্ত বৃথা যায়নি। যেমন শহীদ নুর হোসেনের রক্তের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন হয়েছে, তেমনি শহীদ আব্দুর রহিম এবং নুরে আলমের রক্তের বিনিময়ে নিশিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পতন হবে।

ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল সভাপতি নিহতসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আহতের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকালে বরিশাল নগরীর টাউন হল চত্বরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির এই সমাবেশকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ন মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর উ‌দ্দেশ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকের এই সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপলাভ করেছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ২৫-৩০ হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছেন। এটিও যেমন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ। তেমনি সেদিন ভোলায়ও বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অবস্থাপনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষে মিছিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আপনারা গুলি চালিয়ে আমার দুই ভাই নুরে আলম ও আবদুর রহিমকে হত্যা করেছেন। আরো অনেক ভাই হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের গুলি করে আপনারা এই সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এই দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন। আ. রহিম ও নুরে আলম দেশ ও জনগণের জন্য জীবন দিয়ে গেছে। এই শহীদের আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটিয়ে দেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করা হবে। শেখ হাসিনার অধীনে এদেশে আর কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন করে এই দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে গয়েশ্বর রায় আরও বলেন, আপনারা জনগণের টাকায় বেতন নেন। জনগণ আপনাদের টাকায় চলে না। জনগণের বুকে আর গুলি চালাবার চেষ্টা করবেন না। গুলি করে এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে কুইনরেন্টালের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। এই জনগণের টাকা পাচারের জন্য তাদের হিসাব দিতে হবে।

বরিশাল মহানগর ও জেলা (দক্ষিণ) এবং উত্তর জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে সমাবেশে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন─ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু, এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহবায়ক সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, এবায়েদুল হক চান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক মজিবুর রহমান নান্টু, উত্তর জেলা আহবায়ক দেওয়ান মো. শহিদউল্লাহ প্রমুখ।