ইউপি ভোটের জয়ে নৌকাকে ছাড়িয়ে গেল ‘স্বতন্ত্র’

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৬, ২০২২

ঢাকা: ইসি সচিবালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার ৭০৭টি ইউপিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯২টির ফল পাওয়া গেছে। এতে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৩৪১ ইউপিতে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পান ৩৪৬টিতে। এর বাইরে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দুটিতে, জাতীয় পার্টি দুটিতে এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি একটিতে জয় পেয়েছে।

গত বছরের জুনে শুরু হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জয় তুলে নিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের জয়ের পাল্লা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। সবশেষ বুধবার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে নৌকা প্রতীককে ছাপিয়ে বেশি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত পরিসংখ্যানে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ইসি সচিবালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার ৭০৭টি ইউপিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯২টির ফল পাওয়া গেছে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৩৪১ ইউপিতে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় তুলে নিয়েছেন ৩৪৬টিতে। এর বাইরে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ দুটিতে, জাতীয় পার্টি দুটিতে এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি একটিতে জয় পেয়েছে।

এ ছাড়া ভোটের দিন কেন্দ্র স্থগিত হওয়ায় ১৩ ইউপির ভোট স্থগিত রয়েছে। আদালতের আদেশে একটি এবং ভোট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এক ইউপিতে।

ফল পাওয়া ৬৯২টি ইউপির মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন ৫২ প্রার্থী।

এবারের ইউপি নির্বাচনের প্রধম ধাপে ছিল আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার। প্রথম ধাপের প্রথম অংশে ২০৪টি ইউপির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৪৮টিতে আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র ৪৯ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ৪৮৬টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ এবং ৩৪৮ ইউপিতে জয় পেয়েছিল স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য দল। তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৫২৫ প্রার্থী এবং ৪৪৬ স্বতন্ত্র প্রার্থী চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

এর আগে ২৮ ডিসেম্বর হওয়া চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন ৩৯৬ ইউপিতে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পান ৩৯০টিতে।

বুধবার পঞ্চম ধাপের নির্বাচনের দিনে সহিংসতায় ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর চলমান ইউপি নির্বাচনে প্রাণহাণি অর্ধশতের কাছাকাছি।

বুধবার নির্বাচন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ছাড়া সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে। ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশের বেশি। গত ২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল।’

চলমান ইউপি ভোটে সহিংসতা ও মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নয় বরং এ দায় প্রার্থীদের। এ পর্যন্ত সব ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলেও দাবি করেন ইসি সচিব।

৪৮ জেলার ৯৫ উপজেলার ৭০৭ ইউনিয়নের এই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ জন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ছাড়া তিনটি পদে প্রার্থী ছিলেন ৩৬ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২৭৪, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজার ৯৫০ এবং সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার ২৩৩ জন।

এ পর্যন্ত হওয়া নির্বাচনে প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ এবং ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপিতে ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপিতে ভোট হয় ১১ নভেম্বর। ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে এক হাজার ইউপিতে ভোটের এক মাসের মাথায় ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে ৮৩৬ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে।

বুধবার পঞ্চম ধাপে হয় ৭০৭ ইউপিতে ভোট। ষষ্ঠ ধাপের ভোট হবে ৩১ জানুয়ারি। ৭ ফেব্রয়ারি সপ্তম ধাপ এবং ১০ ফেব্রুয়ারি হবে অষ্টম ধাপের ভোট।