প্রেমের টানে মেক্সিকান তরুণী ছুটে এলেন বাংলাদেশে

সোমবার, নভেম্বর ২২, ২০২১

ময়মনসিংহ: ভালোভাবে ইংরেজিতে কথোপকথনের জন্য একজন দক্ষ বন্ধু খুঁজছিলেন জামালপুরের যুবক রবিউল হাসান। এ জন্য ফেসবুকে বন্ধু বানান উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর তরুণী গ্লাডিস নাইলি টরিবিও মরালেসকে। কথা বলতে বলতে একসময় বন্ধুত্ব, তারপর তাদের মধ্যে হয়ে যায় প্রেম।

অতঃপর সেই প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসেন ওই তরুণী। বদল করেন ধর্মপরিচয়। নাম পরিবর্তন করে হন লাইলী আক্তার। শেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে হয়ে যান বাংলাদেশের বধূ।

রবিউল হাসানের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের পোগলদিঘা গ্রামে। লাইলী আক্তার এখন থাকছেন শ্বশুরবাড়িতে। এদিকে তাকে একনজর দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের উৎসুক জনতা।

জানা গেছে, পোগলদিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল হাসান ময়মনসিংহের রুমডো ইনস্টিটিউট অব মডার্ন টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যালে ডিপ্লোমা শেষ করে ফ্রিল্যান্সিং করছেন।

রবিউল হাসান জানান, টানা দুই বছর প্রেম করার পর রোববার (২১ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টায় বাংলাদেশে আসেন ওই তরুণী। রবিউল ও তার পরিবারের লোকজন হযরত শাহ জালাল (র.) বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। বিমান থেকে নামার পর কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ঢাকা জজ আদালতে গিয়ে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে নিজের খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর রবিউলকে বিয়ে করেন। এরপর বাড়িতে এসে পৌঁছান মধ্যরাতে।

মেক্সিকান তরুণী জানান, মেক্সিকোর পোয়েবলা শহরের ব্যবসায়ী গ্রেগ্রোরিও টরিবিওর মেয়ে তিনি। মেক্সিকোর বেনেমেরিটা অটোনোমাস ইউনিভার্সিটি অব পোয়েবলা থেকে তিনি ২০১৬ গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। রবিউলের সঙ্গে প্রেম হওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু করোনাভাইরাসের জন্য এত দিন আসতে পারেননি।

নতুন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কেমন লাগছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখানকার পরিবেশ খুবই চমৎকার। লোকজনও অনেক মিশুক ও ভালো। সব মিলিয়ে খুবই ভালো লাগছে।

কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করে লাইলী আক্তার মেক্সিকোতে ফিরে যাবেন এবং পরবর্তীতে দুদেশের নিয়মানুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রবিউলকে মেক্সিকোতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান এ তরুণী।

পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন সামস বলেন, এমন মিলন প্রমাণ করেছে যে সবার ওপরে প্রেম। এই প্রেমের মিলন দেখতে রবিউলের বাড়িতে মানুষজন ভিড় করছেন। তারা সুখী হোক।