জাতীয় নির্বাচনের তৎপরতা ও আন্দোলনের ঘনঘটা

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১

ঢাকা: সিডিউল অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অর্থাৎ এখন থেকে পুরো সোয়া দ্ইু বছর এখনো বাকি। কিন্তু এখনই চলছে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। গত কয়েক মাস ধরেই আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কানাঘুষা চলছিলো। তারই মধ্যে গত সপ্তায় হঠাৎ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যানির্বাহী কমিটির বৈঠক ডেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিলেন। এমনকি একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ইশতেহার তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজও শুরু করেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি গঠন ছাড়াও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ৪০ হাজার কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের প্রস্তুতি এমন দৃশ্যমানভাবে চলছে যেন সময় একেবারেই কম।

কিন্তু অন্যদিকে বিরোধী শিবির বিএনপি নির্বাচনের মধ্যে নেই। তারা ঘোষণা দিয়েছে, কোনো রকমের নির্বাচনেই যাবে না তারা বর্তমান সরকারের অধীনে। ইতিমধ্যেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছে নতুন করে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। মনে করা হচ্ছিলো এটিকে সামনে রেখেই বিএনপি রাজপথে নামবে। তবে বিএনপি নেতারা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, তারা এ মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন নিয়ে ভাবছেন না। এটি তাদের ইস্যু নয়। তাদের সামনে এখন একমাত্র ইস্যু নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে রাজপথে নামবে শিগগিরই। এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। ডান-বাম সবধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোর যেসব কমিটির কার্যক্রমে দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কার্যক্রমটি চাঞ্চল্য জাগিয়েছে তা হলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার সিরিজ বৈঠক। লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি ভার্চুয়াল বৈঠকে নেতা-কর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। আগের সপ্তায় এক দফা সিরিজ বৈঠক হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। শীর্ষকাগজের এ প্রতিবেদন লেখার সময় চলছিলো মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সিরিজ বৈঠক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র এমনকি সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিএনপি এখন সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী।

আর এটিকেই বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যে বিএনপি অন্যের সাহায্য ছাড়া, বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়া আন্দোলনের কথা ভাবতেও পারতো না এখন সেই দলটিই এককভাবে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির প্রায় সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন সফল করার ব্যাপারে বেশ কনফিডেন্ট। গত কয়েক বছরে বিএনপি অকল্পনীয় সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করেছে বলে নেতারা দাবি করছেন। সরকারি সংস্থাগুলোরও আভাস এমনই। অবশ্য ইতিমধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এর প্রমাণও রেখেছে দলটি। আওয়ামী লীগ সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলো এতোদিন। কিন্তু বিএনপি নেতারা এখন সেই আওয়ামী লীগকেই প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন, বন্দুকের পাহারা (পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর) ছেড়ে শক্তি পরীক্ষায় ময়দানে আসার জন্য।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবে না, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বরের ব্যাপক কারচুপি ও রাতের ভোটের জাতীয় নির্বাচনের পর পরই। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই মর্মে সিদ্ধান্তও হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শসহ নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছিলো বিএনপিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে নির্বাচন সম্ভব নয়, এটাও চূড়ান্তভাবে প্রমাণের প্রয়োজন ছিলো। তাছাড়া নিজেদের সাংগঠনিক ভিত আরো মজবুত করাও লক্ষ্য ছিলো। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলের অনেক সমালোচনার মধ্যেও একের পর এক প্রহসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। অবশেষে দীর্ঘ সোয়া দুই বছর পরে গত ১৫ মার্চ, ২০২১ বিএনপির পক্ষ থেকে এই মর্মে সিদ্ধান্ত জানানো হয় যে, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না তারা।

এদিকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি উঠার পর পরই অনেকটা ক্ষেপে গেছেন সরকারের মন্ত্রীরা। একযোগে বলতে শুরু করেছেন, নির্দলীয় সরকার বাংলাদেশে আর আসবে না। দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। এমনকি এই বলে হুমকিও দেয়া হচ্ছে যে, কারাদণ্ড স্থগিতের আদেশ বাতিল করে বেগম খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠানো হবে। তবে এ মুহূর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এমন হুমকিকেও কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
চিকিৎসার্থে অনেকবার বিদেশ পাঠানোর আবেদন জানানো হলেও সরকার সেই সুযোগ দিচ্ছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলন দমনের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায় সরকার মূলতঃ। কিন্তু বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রমতে, এ ধরনের ট্রাম্পকার্ডে এখন আর কাজ হবে না। বরং বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়া হলে সেটিকেই তারা আন্দোলন বেগবান করার ক্ষেত্রে কাজে লাগাবে। যদিও ইতিপূর্বে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইস্যুতে জোরালো কোনো কর্মসূচি দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সেটি ছিলো কৌশলগত অবস্থান। বরং সরকার বার বার চেষ্টা করেছে বিএনপিকে মাঠে নামাতে। তাতে দফায় দফায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দলের কোমর ভেঙে দেয়া সম্ভব হতো। কখনো সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারতো না। সরকারের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। শত উস্কানিতেও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা তেমন কর্মসূচিতে যাননি।
২০১৫ সালের পরে মূলত বিএনপি জোরালো কোনো কর্মসূচিতে যায়নি।

বলা যায়, সেই থেকে বিএনপি সাংগঠনিক কাজেই শুধু মনোনিবেশ করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচন সুষ্ঠু এবং পরিকল্পনা মাফিকই হওয়ার কথা ছিলো। শেষ মুহূর্তে সবকিছু ভন্ডুল করে দিয়েছে চীন। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার জন্য এমন ছক এঁকেছে যে, বিএনপিকে মাঠেই নামতে দেয়নি। ফল দাঁড়িয়েছে এই, এদেশের ইতিহাসে ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল, এমনকি নির্বাচন কমিশনও এক পর্যায়ে সেটিকে ‘রাতের ভোট’ হিসেবে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। পরবর্তীতে গত পৌনে তিন বছরে দেশে যা কিছু নির্বাচন হয়েছে, কমবেশি প্রত্যেকটিই ভোটারশূন্য দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে কোথাও কোথাও মাইক দিয়ে আহ্বান জানিয়েও কেন্দ্রে ভোটার আনা যায়নি। যাকে গণতন্ত্রের জন্য ‘অশনি সংকেত’ বলেই আখ্যায়িত করছেন পর্যবেক্ষকরা।

চীনসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের বর্তমান এই পরিবেশকে মেনে নিয়েছে তাদের কেউই মূলত গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমারা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য এ অঞ্চল নিয়ে বেশ মাত্রায় তৎপর। মিয়ানমারে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জান্তা সরকার বিরোধী পাল্টা সরকার গঠন ও সেখানকার সংঘর্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বৃটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ৬। গত কিছুদিনে সেখানে সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যকার সংঘর্ষ নতুন মাত্রা পেয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ভারত এবং থাইল্যান্ড পালিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা বাংলাদেশের ৭১ সালের মতো চিত্র দেখা যাচ্ছে। মূলত চীনকে টার্গেট করেই যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা মিয়ানমারে বেশি মাত্রায় তৎপর।
এদিকে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পাদিত অকাস চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে আধুনিক এবং নিখুঁত পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি সরবরাহ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যা এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকেই পাল্টে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ধরনের প্রযুক্তি ইতিপূর্বে একমাত্র যুক্তরাজ্যকেই সরবরাহ করা হয়েছিলো, তাও প্রায় ৬০ বছর আগে। শুধু পারমাণবিক সাবমেরিন প্রযুক্তি সরবরাহই নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে মূলতঃ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য চীনের দোরগোড়ায় এসে সশরীরে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। এই চুক্তির ফলে চীন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে।
চুক্তিটিতে এই তিন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রযুক্তি বিনিময়ের কথাও আছে- তবে মূল জিনিসটি হলো পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন। তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিক্রি করা হবে টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে চীন একে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘সংকীর্ণ মানসিকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সম্পাদকীয়গুলোতে এ চুক্তির নিন্দা করা হয়। গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া এখন নিজেকে চীনের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
চীনকে ঠেকাতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছেন বাইডেন প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসেই। মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার কারণও এটি। তারা এ মুহূর্তে একমাত্র মনোযোগ দিতে চায় চীনের ওপর। যে তিনটি দেশের মধ্যে অকাস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এরা সবাই ইংরেজি ভাষাভাষি এবং একই গোত্রের হিসেবে পরিচিত। ভারত এবং জাপান অকাস-এ ঢুকতে চেয়েছিলো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এই ত্রিদেশীয় জোটে নতুন কাউকে নেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তারা মূলত চীনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুতগতিতে এগোতে চায়। অন্য কাউকে এই জোটে নিলে সেটি বিঘিœত হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য হার্ডলাইনে যাচ্ছে। ‘ভারতের চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখা’র যে নীতি ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ছিলো সেটি ইতিমধ্যে পাল্টে ফেলার কথা জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্থনি ব্লিংকেন সম্প্রতি ভারত সফরকালে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে তারা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। এবং তা অতি শিগগিরই। আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতামতকে কোনো রকমের গুরুত্ব না দিলেও এখন দিতে বাধ্য হচ্ছে। ইতিপূর্বে পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বাইপাস করে বাংলাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। এ কারণে সরকার মোটামুটি নিশ্চিন্ত ছিলো।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন করায় এখন তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে উপায় নেই। গোটা বিশ্বে আমেরিকার প্রভাব ক্রমহ্রাসমান হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখনো তাদের প্রভাবকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া ভারতের সঙ্গেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, এটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। কেউ কেউ বলছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাসের তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছে।

সবকিছু মিলিয়ে সরকারকে আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবতে হচ্ছে। এমন কথাও প্রচারিত আছে যে, আগামী বছরের কোনো এক সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকার বিদেশিদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এমন কিছু নিশ্চয়ই ইচ্ছাকৃতভাবে করবে না, যার মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষমতা হারাতে হতে পারে। বিএনপি এ কথা ভালো করেই জানে। আর এ কারণেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলেছে।