পার্বতীপুরে বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ গাছ উদ্ধার

রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০

দিনাজপুর (পার্বতীপুর) : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বন বিভাগের মূল্যবান শালকাঠসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বর্তমানে ট্রাক্টরসহ কাঠগুলো জব্দ করে ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গত ১৮ আগষ্ট উপজেলার ভবানীপুর-খয়েরপুকুর সড়কের কালিকাপুর টুকুর পাড়া থেকে পুলিশ কাঠগুলো উদ্ধার করলেও গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- গত ১৫ আগষ্ট রাতে ভবানীপুর বন বিট কার্যালয় থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে কালিকাপুর টুকুরপাড়ায় দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা স্থানীয় যুবক নাজমুল হক গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া ওই এলাকার নকুল চন্দ্র সরকারের পান দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় ক্ষুদ্ব এলাকাবাসী কাঠ বোঝাই ট্রাক্টরটি ৪ দিন ধরে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে ট্রাক্টর চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ কাঠসহ ট্রাক্টরটি উদ্ধার করে ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসলে নিলামে কাঠ বিক্রির আড়ালে বন বিভাগের মূল্যবান কাঠ পাচারের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, বন বিভাগের ভবানীপুর বন বিট থেকে প্রথমে হাবড়া ইউনিয়নের উলিপুর গ্রামের জনৈক আনিছুর চৌধুরী বন বিভাগের কিছু গাছ নিলামে ক্রয় করেন।

পরে তা ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হারুন সেগুলো কিনে নেয়।

পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান হারুন কাঠগুলো নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঠ ব্যবসায়ী সাইদুলের কাছে বিক্রি করে দেন।

মধ্যপাড়া রেঞ্জ কার্যালয় ও ভবানীপুর বিটসহ বিভিন্ন বিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজসে মাঝে মধ্যে মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান।

পার্বতীপুরের ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এম,আর সাঈদ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত খবর পেয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় কাঠসহ ট্রাক্টরটি উদ্ধার করি। ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ পুলিশ

তদন্ত কেন্দ্রে এসে কাঠগুলো দেখে গেছেন তবে এখন পর্যন্ত কোন মামলা করেননি।

এ ঘটনায় ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বাদি হয়ে দিনাজপুর বন বিভাগ আদালতে নিয়মিত মামলা করেছেন বলে দাবি করেন বন বিভাগের মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম।