চাঁদা না পেয়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে ৮ পুলিশের নামে মামলা

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২০, ২০২০

চট্টগ্রাম: দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি এবং পরবর্তী সময়ে ইয়াবা সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই আট পুলিশ সদস্যসহ মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। আদালত মামলা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন মো. আব্দুল ওয়াহেদ নামে এক ব্যবসায়ী।

অভিযুক্তরা হলেন— নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুর নবী ও গোলাম মোহাম্মদ নাছিম হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অমিত ভট্টাচার্য, মো. শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. সোলাইমান ও ফৌজুল করিম এবং পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত রুবেল।

মামলার বাদী আব্দুল ওয়াহেদ নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিন নগর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর জানান, বাদী ওয়াহেদ ব্যবসার পাশাপাশি বায়েজিদ এলাকায় জমি বিক্রির মধ্যস্থতা করেন। গত ১৩ জুলাই রাতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা সোর্স রুবেলসহ তার বাসায় যায়। পুলিশের হটলাইন নম্বর-৯৯৯-এ কল পেয়ে ওই বাসায় অভিযান চালানোর কথা জানান তারা। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দিতে না পারলে তার বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

ওই মামলায় জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ওয়াহেদ দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৯৫, ১৬১, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে নগর পুলিশের উপকমিশনারকে (উত্তর) তদন্ত করে ১ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আইনজীবী আলমগীর জানান।

অভিযোগের বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। অভিযোগ কী, সেটা এখনো জানতে পারিনি। অভিযোগগুলো দেখে আইনিভাবে মোকাবিলা করব।’