মাগুরায় ভাই-বোনের রহস্যজনক মৃত্যু

সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২০

মাগুরা : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে ভাই-বোনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ, চিকিৎসক, বাবা-মা ও স্বজনরা খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে খাবারে বিষ কীভাবে আসল, সেই বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টার দিকে শিমুল মোল্যা (১২) মাগুরা সদর হাসপাতালে, আর আরেফিন খাতুন (২০) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিনোদপুর গ্রামের আরজু মোল্যা (৪০) পেশায় কৃষক। স্ত্রী শ্যামলী বেগম গৃহিণী। তাদের বড় মেয়ে আরেফিন বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং ছেলে শিমুল (১২) বিনোদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে বাবা-মা, ছেলেমেয়ে ও তাদের দাদি মিষ্টি কুমড়া ও ডিম দিয়ে ভাত খায়। চারজন একসঙ্গে রান্না ঘরে বসে খেলেও দাদি আনোয়ারা বেগম অসুস্থ থাকায় তার খাবার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। খাবার খেয়ে শিমুল বাবা-মায়ের সঙ্গে, আর আরেফিন দাদির সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিমুলের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। মুখ দিয়ে ফেনা জাতীয় তরল বের হতে থাকে। গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে আরেফিনের একই উপসর্গ দেখা দেয়। শিমুলের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভোরে মাগুরার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

এরই মধ্যে বাড়িতে আরেফিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকালে তার মৃত্যু হয়।

মা শ্যামলী বেগম জানান, শনিবার স্কুলের অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় আহম্মদ বিশ্বাস ওরফে মাধোর মুদি দোকান থেকে ২৫০ মিলিলিটারের কোমলপানীয় কিনে বাড়িতে নিয়ে আসে শিমুল। সেই পানীয় তিনি ছেলেকে পান করতে দেখলেও মেয়েকে পান করতে দেখেননি।

পুলিশ জানান, তাদের বাড়ি থেকে কোমলপানীয়ের একটি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেই পানীয় মেয়াদোত্তীর্ণ নয়। চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত মেয়াদ আছে।

পরিবারের ৪-৫ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই খাবার সবাই খেলেও বাবা-মা ও দাদির কোনো সমস্যা হয়নি।

এই ভাই-বোনকে চিকিৎসা দেওয়া মাগুরার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালের জরুবি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষিত পাল বলেন, যেভাবেই হোক তাদের পাকস্থলিতে উচ্চমাত্রার কীটনাশক গেছে।

শিমুলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় বিনোদপুর ঈদগাহ-গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আরেফিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরায় পাঠিয়েছে পুলিশ।