উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তদবির-লবিংয়ে বিএনপি নেতারা

রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২০

ঢাকা: চারটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন সামনে। করোনা মহামারীর মধ্যে যশোর-৬ ও বগুড়া-১ উপনির্বাচন বর্জন করলেও এই ৪ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হলেও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি। তবে এই ৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে এক ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলের হাইকমান্ডের নজর কাড়তে শুরু করেছেন লবিংও। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যম কিংবা নিজ বাসায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

দলের নেতারা জানান, করোনাকালে স্থবির হয়ে যাওয়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা হলেও এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে গতি ফিরে আসবে। আর যখন এসব আসনে উপনির্বাচন হবে, তখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে। বিশেষ করে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা-৫ ও ঢাকা-১৮ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সামনে চারটি আসনে উপনির্বাচন। এসব উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গত ৬ মে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা এবং ১০ জুলাই ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য সাহারা খাতুন মারা যান। আর ২ এপ্রিল পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ এবং ১৩ জুন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাসিম মারা যান। তাদের মৃত্যুতে এই চারটি আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

বেশি মনোযোগ ঢাকার দুইটি আসনে : পাবনা-৪ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসন নিয়ে তেমন আগ্রহ না থাকলেও ঢাকার দুই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপির আগ্রহ বেশি। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ প্রবেশমুখের ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৫ দুটি আসন রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছুদিন আগে আসন দুটি শূন্য হয়। তাই দ্রুতই এই আসনগুলোয় নির্বাচন করতেই হবে, নির্বাচন কমিশনের এমন বাধ্যবাধকতাও নেই। আগামী ২ মাস পরে এই আসনগুলোয় নির্বাচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ততদিনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ফলে নির্বাচনে অংশ নিতে সমস্যা থাকবে না। শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন মতামতই দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মহানগর বিএনপির নেতা নবী উল্লাহ নবী। উপনির্বাচনেও তিনিও প্রার্থী। এ ছাড়াও এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এ আসনের সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ। সালাহউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বিগত সংসদ নির্বাচনের দিনটি পুরো জাতি দেখেছে। কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা আমাকে এবং আমার ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে গুরুতর আহত করার পরও জ্ঞান থাকা পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছি। ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সফল এমপি হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে দলের হাইকমান্ড যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করতে প্রস্তুত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষকনেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং মহানগর নেতা জয়নাল আবেদীন রতনও এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জেএসডির নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। কিন্তু উপনির্বাচনে তার অংশ নেয়ার তেমন আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন আহমেদ, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মো. বাহাউদ্দিন সাদী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি উত্তরার আদি বাসিন্দা। বেড়ে ওঠা আমার এখানেই। ৩২ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক জীবনে দলের জন্য মামলা-হামলা-গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বর্তমানে ১২৯টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে। এছাড়া আমি একজন ব্যবসায়ীও। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ’র সদস্য। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিজয় উপহার দিতে সক্ষম হব। নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন বলে জানান কফিল উদ্দিন।

সম্ভাব্য আরেক প্রার্থী বাহাউদ্দিন সাদী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই দুর্যোগ ও সংকটকালীন মুহূর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকেও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে আপাতত প্রচার বন্ধ রেখেছি। তবে যে কোনো সময় পূর্ণ শক্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালানোর মতো শক্তি ও সামর্থ্য দুটোই আল্লাহর রহমতে আমার রয়েছে। মনোনয়ন পেলে আসন পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাব।