পরমাণু শক্তি পুরোপুরি নিষিদ্ধ দাবি এরদোগানের

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, পরমাণু শক্তির উৎপাদন এবং ব্যবহারে কোন দ্বৈত নীতি থাকা যাবে না। হয় বিশ্বের সব দেশ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকারী হবে আর তা না হলে পরমাণু শক্তির ব্যবহারের বিষয়টি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।

গতকাল (মঙ্গলবার) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরমাণু শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেসব দেশের কাছে পরমাণু শক্তি আছে এবং যেসব দেশ এই শক্তির অধিকারী নয় তাদের ভেতরে যে বৈষম্য বিরাজ করছে তাতে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে পরমাণু শক্তির ব্যবহার হয় পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে আর তা না হলে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

এরদোগান বলেন, বেশ কয়েকটি দেশের কাছে পরমাণু ওয়ারহেডবাহী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং এরকম দেশের সংখ্যা একটি দুটি নয়। অথচ তারাই বলে আমরা পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারব না। এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো আংকারাকে পরমাণু শক্তির অধিকারী হওয়ার পথে বাধা দিতে পারে না। রাশিয়া থেকে এস-ফোর হান্ড্রেড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে মারাত্মক টানাপোড়েনের মধ্যে এরদোগান এ কথা বলেছিলেন।

এদিকে, একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলোর জন্য তেহরান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করার হুমকি দিয়ে দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ওয়াশিংটন কখনো তেহরানকে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। ইরানের ওপর কথিত সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান ট্রাম্প।

ইরানি গণমাধ্যম জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সময় ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক দেশ বলে অভিহিত করলেন যখন ইরাক ও সিরিয়ায় বিগত বছরগুলোর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে তেহরান। এছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ যখন তার ১৫টি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে তখন ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করলেন।