ঢাবি ও জাবি ভিসির পদতাগ দাবি সোহেলের

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

ঢাকা: অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তিনি এ দাবি করেন।

সোহেল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে গর্ববোধ করতাম। কিন্তু সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চিরকুটের মাধ্যমে তাদের দলীয় ছাত্রদের ভুয়া ভর্তি করেছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্রলীগ নেতাদের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন। অবিলম্বে এই দুই ভিসিকে পদত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তাদের পদত্যাগ চায়।’

আওয়ামী লীগের ‘ডিজিটাল উন্নয়নের খপ্পরে’ মসজিদের শহর ঢাকা এখন ক্যাসিনোর শহরে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে সোহেল বলেন, ‘এই ক্যাসিনোর সাথে ২/৪ জন যুবলীগের নেতাই কেবল জড়িত নয়, আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতা জড়িত রয়েছে, প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এই অভিযান কি লোক দেখানো নাকি স্থায়ী বন্ধের জন্য তা মানুষ জানতে চায়। যদি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য হয় তাহলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে মানুষ মনে করবে এটা লোক দেখানো অভিযান।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিংবা গুরুত্বর অসুস্থ বলে তাঁর মুক্তি চাইছি না। তাঁর মুক্তি চাইছি একারণে যে, যত দিন যাচ্ছে এদেশের মানুষ টের পাচ্ছে তারা কতটা নিরাপত্তাহীন, কতটা অভিভাবকহীন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর এদেশের গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, নৈতিক মূল্যবোধগুলোকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বেগম জিয়াকে কারাগারে নিয়ে নির্বাচনের নামে প্রশাসন দিয়ে মধ্যরাতে সার্কাস দেখানো হয়েছে। মানুষকে এই দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্ত করতেই বেগম জিয়ার মুক্তি চাইছি।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ‘ডাম্পিং ল্যান্ড’ মনে করে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দেয়া হয়েছে। আরেকটি প্রতিবেশী দেশ (ভারত) কিছু মানুষ তৈরি করেছে, তাদেরও বাংলাদেশকে ডাম্পিং ল্যান্ড মনে করে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চলছে। একদিকে এই পরিস্থিতি অন্যদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুর্নীতি জাতিকে হতবাক করেছে।’

সরকারের দুর্নীতির নমুনা তুলে ধরে সোহেল আরও বলেন, ‘বালিশ-পর্দার লাখ টাকা দামের পর মানুষ এখন জানতে চায় গণভবনের, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের বালিশ-পর্দার দাম কত টাকা?’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও ড্যাব মহাসচিব আবুল কালাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।