মেয়ের জবানবন্দিতে ফেঁসে গেলো ‘ধর্ষক’ বাবা

বুধবার, জানুয়ারি ৯, ২০১৯

ঢাকা : রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় প্রতিবেশীর আড়াই বছরের শিশু আয়েশাকে বাড়ির তিন তলার বারান্দা থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় বাবার বিরুদ্ধে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছে মেয়ে।

ঘটনাটি গত ৫ জানুয়ারির। গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের একটি টিনসেড বাড়িতে বাবা-মা ও বোনদের সঙ্গে থাকতো আড়াই বছরের শিশু আয়েশা। প্রতিদিন সকালে আয়েশার মা-বাবা কাজে যান। দিনের বিভিন্ন সময় গেণ্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে খেলা করতো শিশু আয়েশা।

শিশু আয়েশাকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে মো. নাহিদ (৪৫)। সে সময় ভুক্তভোগী শিশুটির চিৎকারে নাহিদের নিজের মেয়ে ফাতেমা জাহান বুশরা (১২) ঘরে ঢোকে। নাহিদ তখন মেয়েকে ধমক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর সে তিনতলার নিজের বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেয় শিশু আয়েশাকে। এতে মৃত্যু হয় শিশুটির।

এ ঘটনার আদ্যোপান্ত জানা গেছে নাহিদের মেয়ে বুশরার জবানবন্দিতে। গতকাল মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বাবার কুকর্মের কথা তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দি দেয় সপ্তম শ্রেণির এই শিশু।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত শনিবার ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরদিন রবিবার (৬ জানুয়ারি) নিহতের বাবা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে ‘ধর্ষণের পর হত্যার’ অভিযোগ এনে প্রতিবেশী নাহিদকে আসামি করে গেন্ডারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

উপ-কমিশনার জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার আসামি নাহিদকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে নিজ বাসার তৃতীয় তলার খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে তার দুই পা ভেঙে যায়। গ্রেফতারের পর আসামি নাহিদ পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে রয়েছে।

উপ-কমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন জানান, শিশু আয়েশা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এগিয়ে আসে গ্রেফতারকৃত আসামি নাহিদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে বুশরা। গতকাল মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বাবার কুকর্মের কথা তুলে ধরে আদালতে জবানবন্দি দেয় সে।