ফের নির্বাচন নিয়ে মাহবুব তালুকদার কথা বললেন

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৮, ২০১৯

ঢাকা : সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শুধু ভূয়সী প্রশংসাই নয়, নির্বাচন কমিশনে কাজ করার সুযোগকে তিনি জীবনে গৌরব গাঁথা হিসেবেও আখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। নিজেকে বলেছিলেন ভাগ্যবান।

এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং যোদ্ধার মতই তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সবাইকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গত ৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সফল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত, ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে’ এসব কথা বলেন তিনি। তার সেই বক্তব্যের রেডর্কও ছিল।

কিন্তু আজ মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত প্রেসবিফ্রিংয়ে তার সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, আমি যে বক্তব্য রাখি তাতে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সরাসরি সেইদিনের বক্তব্যের কেনো প্রতিবাদ করেননি। বলেননি অসত্য। তবে তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট কিছু নেই। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দেয়ায় এসব ব্যাপারে তার কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সেদিন সেই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক বললেও আজ বলেছেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও লাভ নেই।

তিনি বলেন, আমার আমার অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, বিগত ৩ জানুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে’ আমি যে বক্তব্য রাখি তাতে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করেছি কি না! এ সম্পর্কে বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমি বক্তব্যে বলেছি ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিয়েছি’। ইতোপূর্বে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের বক্তব্যে আমি বলেছিলাম, ‘সব দল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটি প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।’

নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আমি কোনো কথা বলিনি। কেমন নির্বাচন হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমি পূর্বে বলেছি, ‘নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, তাহলে এ প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন।’ এখনও আমি সেই কথাই বলি। আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, বিগত ৩ জানুয়ারির অনুষ্ঠানটি ছিল ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান। কাউকে প্রশংসা সূচক কথা বলে ধন্যবাদ জানাতে হয় এবং সেটাই সৌজন্যের প্রকাশ। আমার ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না।

কমিশন বৈঠকে অনেকবার নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়ে আলোচনায় আশা মাহবুব তালুকদার এর আগে তিনি বলেন, আগের নির্বাচন অংশীদ্বারমূলক হয়নি। এই প্রথম একটা অংশীদারমূলক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। এবং আমি মনে করি এই নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করবে। এই নির্বাচন ধরেই পরবর্তী ইতিহাসে যে নির্বাচনের ধারা সেটা পরবর্তী সময়ে হয়তো ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে।

সেদিন তিনি শুরু করেন এভাবে, মনোরম পরিবেশে আপানাদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আমি খুব ভাগ্যবান, নিজে নিজেই বললাম। তার কারণ হলো, আমি আমার জীবন প্রারম্ভে যখন সরকারের চাকরিতে আসি, তখন বঙ্গবভবনে আমি, পাঁচ বছর সময় কাটিয়েছিলাম। চারজন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমরা সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সেটা ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর‌্যন্ত। আর জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চারজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আমার আবার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। সম্ভবত পাঁচ বছর ব্যাপী। সেজন্য আমি মনে করি, জীবনের প্রথম আমলা হিসেবে কাজ করা এবং জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এই আর পাঁচ বছর এগুলো আমার জীবনে গৌরব গাঁথা হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আপনার জানেন, আমাদের নির্বাচনের কোনো ধারাবাহিকতা নেই কিংবা ছিল না। আমরা কখনও তত্বাবধায়কর সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছি, কখনও সেনা সমর্থিত সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছি। কখনও নির্বাচন করেছি দলীয় সরকারের অধীনে। কিন্তু তা অংশীদ্বারমূলক হয়নি। এই প্রথম একটা অংশিদ্বারমূলক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আমরা জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। এবং আমি মনে করি এই নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করবে। এই নির্বাচন ধরেই পরবর্তী ইতিহাসে যে নির্বাচনের ধারা সেটা পরবর্তী সময়ে হয়তো ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যে এতো বিশাল কর্মযজ্ঞ, এ বিষয়ে সত্যি আমার ধারণা ছিল না। কারণ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করার কোনো সুযোগ কিংবা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাজ করার কোনো সুযোগ আমার আমলা জীবনে কখনও হয়নি। এখানে এসে এই বিশাল কর্মকাণ্ড দেখে আমার জীবনের একটা বিশাল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছি।

এবং কী নিরলস প্রচেষ্টার আপনারা এই নির্বাচনটা আাপনারা সফলদায়ক করেছেন, সর্বাঙ্গীণভাবে সফল করেছেন, এটা আমি যদি প্রত্যক্ষভাবে না থাকতাম, তাহলে আমি দেখতে পারতাম না। বুঝতে পারতাম না। বিশেষ করে আমি লক্ষ্য করেছি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের যিনি কেন্দ্রবিন্দু, আমাদের নির্বাচন কমিশনের সচিব মহোদায় এবং তার সঙ্গে এখানে যারা পরবর্তী নির্বাচন সৈনিক ছিলেন, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপ-সচিব এবং অন্যান্য যারা ছিলেন, তারা কি নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই নির্বাচনকে সফল করেছেন, এই অভিজ্ঞাতাও আমার জন্য অনেক বিশাল এক অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই মানীনয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং যোদ্ধার মতই তিনি এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সবাইকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার যাদের সঙ্গে আমার প্রতিদিন দেখা হয় এবং এটা একটা আমি বলবো অপরিসীম অনুগ্রহ আমি যাদের সঙ্গে দুই বছরের কাছাকাছি সময় অতিবাহিত করেছি, আরও তিন বছর অতিবাহিত করতে পারবো আশা করি এবং তাদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, এ সম্পর্ক এতো নীবিড়, এটি কর্মক্ষেত্রে কখনো হয়নি। হওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ না মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেও আমার একটা অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক রয়েছে। যেটার জন্য আমি আনন্দিত এবং গর্বিত।